Total Pageviews

Its Awesome!

Wednesday, August 9, 2017

 7:34 PM         No comments
Garments worker 9 8 2017 1336779756


বিদায়ী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৪২ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি কমেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ রপ্তানি কর, ডেলিভারির অতিরিক্ত সময়, প্রতিযোগীদের পণ্যের দাম তুলনামূলক কম এবং টাকার বিপরীতে ডলারের দাম পড়ে যাওয়ায় কমেছে এই রপ্তানি। পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি কমে যাওয়ার এই লাগাম এখনই টেনে ধরা না গেলে এর প্রভাব পড়বে পোশাক খাতসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে।

ইপিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ আরও বেড়ে ৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছালেও বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছে আবেদন হারিয়েছে বাংলাদেশি পোশাক। প্রতিযোগী দেশগুলো বাংলাদেশের চাইতে কম দামে পোশাক সরবরাহ করায় দেশটির ক্রেতারা এখন প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে পোশাক খরিদ করছেন।
তারা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর আরোপিত কর প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ভিয়েতনাম, তুরস্ক, চীন ও ভারত থেকে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি করতে ৮ দশমিক ৩৮, ৩ দশমিক ৫৭, ৩ এবং ২ দশমিক ২৯ শতাংশ কর দিতে হলেও বাংলাদেশ থেকে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের আরোপিত এই কর হারও ভূমিকা রেখেছে পোশাক রপ্তানি কমায়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করতে প্রায় তিনমাস সময় লেগে গেলেও প্রতিযোগী দেশগুলো দুইমাসের মধ্যেই পোশাক সরবরাহ করতে পারছে। এ ছাড়া তৈরি পোশাকের কাঁচামাল আমদানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং টাকার বিপরীতে ডলারের দাম কমে যাওয়া ভূমিকা রেখেছে পোশাক রপ্তানির আয় কমার ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিকারক ও বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি কমলেও প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে প্রতিযোগিতার এ বাজারে পিছিয়ে পড়ছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পোশাক রপ্তানিতে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে আসার কথা এতদিন ধরে বলে আসলেও বিশ্বাস করতে চাননি সমালোচকরা। গত অর্থবছরের পোশাক রপ্তানির পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে আমাদের সক্ষমতা কতটা কমেছে।’
পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে পড়বে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ।
যেকোনো কিছুর রপ্তানি কমে গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করে তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘পোশাক খাতের রপ্তানি কমে যাওয়ার এ সংবাদ দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেই ভালো ইঙ্গিতের নয়। রপ্তানি কমে যাওয়ার ফলে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ কমে যাবে এবং তা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।’
তবে এর রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে দেশের পোশাক খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করে বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি টিপু মুন্সি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগী দেশগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত বিশ্ববাজারে পোশাকের বাজার হারাচ্ছি আমরা। এটি পোশাক খাতের জন্য উদ্বেগজনক।’
‘বাজার ধরে রাখতে না পারলে দেশের পোশাক কারখানাগুলো হুমকির মুখে পড়বে। ক্রমাগত রপ্তানি কমতে থাকলে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধও হয়ে যেতে পারে যেটা এই খাতের জন্য খুবই খারাপ হবে’, আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সালেহ উদ্দিন আহমদ মনে করেন পোশাক খাতের রপ্তানি গত অর্থবছরে যেমন কমেছে তেমন কমতে থাকবে ভবিষ্যতেও।
তিনি বলেন, ‘ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে এই খাত আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই দেশের অর্থনীতিকে রপ্তানি কমার খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য খাতগুলোতে নজর দিতে হবে সরকারকে। ওইসব খাতে বেশি নজর দিয়ে এই রপ্তানি ঘাটতি পূরণ করতে হবে।’
রপ্তানি কমে যাওয়া যেন ধারাবাহিক প্রক্রিয়া না হয় সেজন্য এই খাতে সরকারের সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন টিপু মুন্সি।
বিজিএমইএ-এর সাবেক এই সভাপতি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য এই খাত অনেকটা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারের উচিত এসব সমস্যার সমাধান করা। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তা। 
‘টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সরকারের উচিত পোশাক রপ্তানিকারকরা যেন এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেন সেদিকে নজর দেওয়া’, যোগ করেন তিনি।
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive