Total Pageviews

Its Awesome!

Tuesday, August 8, 2017

 8:03 PM         No comments
Onion 1254911365


হঠাৎ করেই পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ১০টি কারণ পাওয়া গেছে।

১. কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মুনাফার লোভে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। মূলত ঈদুল আজহা সামনে রেখে বানোয়াট অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। ঈদুল আজহা হবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১ বা ২ সেপ্টেম্বর।

২. মৌসুমী ব্যবসায়ী
দেশের ব্যবসায়ীরা মৌসুম বুঝে ব্যবসা করে। তাই ঈদুল আজহা সামনে রেখে তারা পেঁয়াজের দাম বাড়াতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই পেঁয়াজের পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুদ থাকা সত্ত্বেও দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ করছে।
৩. ভারতের বাজারে কৃত্রিম সংকট
বন্যার কারণে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সেখানকার মোকাম বা আড়তে দাম বাড়ানো হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।
৪. সরবরাহ সংকটের অজুহাত
ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়ায়নি, দেশেও এখনো আমদানি তেমন কমেনি। তা সত্ত্বেও সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে।
৫. ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বন্যার কারণে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট
চলতি মৌসুমে দেশটির মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশসহ পেঁয়াজ উত্পাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাজারে পণ্যটির চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যাপক মাত্রায় কমেছে; কমেছে রফতানির পরিমাণও। এ কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে চার গুণ বেড়েছে।
৬. চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া
ব্যবসায়ীরা জানান, গত মাসের শেষদিকে চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর জের ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। মজুদ করা পেঁয়াজের সিংহভাগই পচে যায়। জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সে সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পণ্যটির আমদানি অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে পণ্যটির দামে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা দেয়।
৭. পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতনির্ভতা
এখানকার প্রায় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। আগে দেশীয় জাতের পাশাপাশি মিয়ানমার, পাকিস্তান ও চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করা হতো। তবে কয়েক মাস ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রতি ঝুঁকেছেন।
৮. সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থার অভাব
সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থাও নেই। টিসিবি একসময় বাজার নিয়ন্ত্রণের কিছু উদ্যোগ নিলেও বর্তমানে একেবারেই নেই।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়। তবে ভারতীয় বড় পেঁয়াজের দাম একটু কম। ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। পাইকারি প্রতি পাঁচ কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকায়।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে শতকরা ৫৭.৪১ শতাংশ। এর মধ্যে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫৯.৫৭ শতাংশ। আর দেশীয় পেয়াঁজের দাম বেড়েছে ৫৮.৩৩ শতাংশ।
দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় ১৯ লাখ টনের মতো, বাকি চাহিদা মেটানো হয় আমদানি করেই।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায় প্রতিবছরই যেহেতু এই সমস্যা হচ্ছে সে জন্য এই সময়ে পেঁয়াজের আমদানি এক মাস তদারক করলেই হয়। আর ঘাটতি মেটাতে স্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে বছরে তিন লাখ টন উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলেই সমাধান হয়ে যায়।’
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive