Total Pageviews

Its Awesome!

Thursday, August 3, 2017

 7:10 PM         No comments


কার্বন নির্গমনে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিকভাবে ঠেকানো সম্ভব না হলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের আবহাওয়া ভয়াবহ বিরূপ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ুর পরিবর্তন গঙ্গা ও সিন্ধু অববাহিকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও চরম পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে খোলা জায়গায় চলাফেরা মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাবেক বিজ্ঞানী ইউন সুনি ইম জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব নিয়ে করা এক গবেষণায় জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের গঙ্গা-সিন্ধু অববাহিকায় বসবাসকারী প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের বসবাস।
বর্তমানে ইউনি সুনি ইম এখন হংকং ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করছেন। গত বুধবার সায়েন্স এডভান্সেস সাময়িকীতে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে যে তাপপ্রবাহ চলবে তাতে কৃষি নির্ভর ও ঘনবসতিপূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবেন।
বিরূপ জলবায়ুর কারণে খরা হানা দিচ্ছে প্রতিবছরই। ছবি: সংগৃহীত
বিরূপ জলবায়ুর কারণে খরা হানা দিচ্ছে প্রতিবছরই। ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু নিয়ে এর আগে সব গবেষণায় শুধুমাত্র তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নতুন গবেষণায় বাতাসের আর্দ্রতা ও মানব দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার বিষয়টিকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আর্দ্রতার পার্থক্যের কারণে মানব শরীরে গরমের অনুভূতি কম-বেশি হয়।
বাতাসের আর্দ্রতা বিবেচনায় পরিমাপ করা তাপমাত্রাকে ‘ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার’ বলা হয়। থার্মোমিটারে ভিজা কাপড় পেঁচিয়ে ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার মাপা হয়। ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার সব সময় ড্রাই বাল্ব টেম্পারেচারের চেয়ে কম হয়। তাপমাত্রার এই পার্থক্য নির্ভর করে বাতাসের আর্দ্রতার ওপর। আর্দ্রতা কম থাকলে ভেজা কাপড়ে দ্রুত বাষ্পীভবন হয় ফলে ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার কম হয়।
ওই গবেষণাটিতে বিজ্ঞানীরা জানান, মানব দেহ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার সহ্য করতে পারে। তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে শরীর থেকে ঘাম ঝরে এবং শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খায়। আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম শুকায় না ফলে শরীর গরম হতেই থাকে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হিট স্ট্রোক এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
যদিও গঙ্গা ও সিন্ধু অববাহিকা অঞ্চলে এখন পর্যন্ত খুব কম সময়ই ওয়েট বাল্ব টেম্পারেচার ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে আর্দ্রতাও বাড়বে যা মানুষের বাঁচা-মরার সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বিশাল অংশের মানুষ কৃষি কাজসহ খোলা আকাশের নিচে কাজ করে। ফলে তাদের জন্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ উচ্চ তাপমাত্রা খুবই ভয়ানক।
সূত্র: এপি
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive