Total Pageviews

Its Awesome!

Sunday, July 9, 2017

 10:00 PM         No comments



ছাত্রীদের যৌন হয়রানির দায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মীর মোশারেফ হোসেন (রাজীব মীর) স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৯ জুলাই রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে রাজীব মীরকে দোষী সাব্যস্ত হয়। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘রাজীব মীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।’
এর আগে গত বছরের ৫ এপ্রিল সাংবাদিকতা বিভাগের এক ছাত্রী রাজীব মীরের বিরুদ্ধে একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি প্রদান, যৌন হয়রানিসহ বেশকিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। এসময় তিনি মুঠোফোন রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণাদিও উপস্থাপন করেন।
ওই ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ট্রেজারার সেলিম ভূঁইয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে একই বছরের ১১ এপ্রিল রাজীব মীরকে বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যহতি প্রদান করে।
এই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ মেলায় গত বছরের ২৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১তম সিন্ডিকেট সভায় রাজীব মীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে এপ্রিলে ওই ছাত্রীর অভিযোগের পর সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একাধিক ছাত্রী রাজীর মীরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলে রাজীব মীরের যৌন হয়রানির তদন্ত চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লাইসা আহমেদ লিসার নেতৃত্বে ওই কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জবির বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা ড. হোসনে আরা বেগম জলিসহ কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন।
এ তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারীরা মুঠোফোন রেকর্ড, ফেসবুক চ্যাট, ম্যাসেজসহ বিভিন্ন প্রমাণাদি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ছাত্রীদের সিনেমা হলে যেতে বাধ্য করা, বাসায় নিয়ে যাওয়া, একসাথে একাধিক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।
পরে এই কমিটির তদন্তেও রাজীব মীর দোষী সাব্যস্ত হন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের প্রতিবেদনে রাজীব মীরের বিরুদ্ধে 'জোর ব্যবস্থা' গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
এদিকে দুটি তদন্তে রাজীব মীরের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে উচ্চতর তদন্ত কমিটি (ট্রাইবুন্যাল) গঠন করা হয় গত বছরের নভেম্বরে। এই কমিটি গত বছরের নভেম্বরে রাজীব মীরকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত (গণশুনানি) করে।
অন্যদিকে ‘প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে ছাত্রীর সাথে সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টার’ অভিযোগের জবাবে রাজীব মীর বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যান। বিচারকদের জেরার মুখে তিনি বলেন, এনগেজমেন্ট হলেও পরে তা ভেস্তে যায়।
কিন্তু তার প্রথম বিয়ের কাবিননামা বিচারকদের কাছে রয়েছে জানালে তিনি বলেন, এনগেজমেন্ট ও বিয়েকে তিনি একই ভেবেছিলেন।
পরে এই কমিটির প্রতিবেদনেও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় রাজীব মীরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। 
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive