Total Pageviews

Its Awesome!

Saturday, June 3, 2017

 11:16 AM         No comments
পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বিশ্ব মোড়লদের কার্যক্রমের কমতি নেই। প্রতি বছরই কনফারেন্স, জনসচেতনতা, বিশ্ব নেতাদের বৈঠকের সঙ্গে হচ্ছে নানা ধরণের চুক্তি। পরিবেশ রক্ষার প্রচেষ্টায় আছে বাম রাজনৈতিক দলগুলোর নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ। আমরা যারা পরিবেশ নিয়ে ভাবি তারাও পরিবেশে রক্ষায় নিজেদের জায়গা থেকে কিছু করতে পারি। অনেকেই হয়ত জানি না, আমাদের চারপাশে থাকা বিভিন্ন উপকারি প্রাণীরা নিজেদের আবাসস্থল সংরক্ষণ বা তাদের পরিচর্যা করে থাকে। চলুন জেনে নেই আমাদের চারপাশে থাকা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রাণীর উপকারিতা সম্পর্কে...

০১. প্রজাপতি
সকালে সূর্য মামা পুব আকাশে উঁকি দেয়ার পূর্বেই ঘুম ভাঙে প্রজাপতির। দল বেঁধে আহারের খোঁজে ছুটে চলে। ঝোঁপে-ঝাড়ে, বনে-জঙ্গলে, এ গাছ থেকে ও গাছে। সবুজ বনানী, নরম ঘাসের ডগায় দিনভর চলে এদের ওড়াউড়ি। বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল বর্ণের বৈচিত্র্যময় ডানায় ভর করে তারা ছুটে চলে। প্রজাপতি নয়ন জুড়ায়; তাই প্রজাপতি নিয়ে গড়ে উঠেছে অনেক প্রজাপতি পার্ক, প্রজাপতি চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম ও সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান। প্রজাপতি দিয়ে অনেক চমকপ্রদ ও শখের মূল্যবান সো-পিস ও গিফট সামগ্রী বানানো হয় যা চড়া দামে বিক্রি করা হয়। প্রজাপতি ফুলে ফুলে উড়ে শুধু মধুই খায় না পরাগরেণু স্থানান্তরিত করে ফুলের পরাগায়নও ঘটায়।
০২. ব্যাঙ
সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ৪,৭৪০ প্রজাতির ব্যাঙের দেখা মিলেছে। এর মধ্যে ১৯৮০ সালের পর প্রায় দুইশ’ প্রজাতির ব্যাঙ বিলুপ্ত হয়েগেছে। বাংলাদেশে ব্যাঙের প্রজাতি মাত্র ৬৩টি। জল অথবা স্থল- উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাঙের অবাধ বিচরণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাঙ ফসলের পোকা-মাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা করে। ফলে জমিতে অতিরিক্ত কিটনাশক দিতে হয় না। তাই জমির উর্বরতা নষ্ট হয়না। ফুড সার্কেলে ব্যাঙ মধ্যম স্তরের প্রাণী। বিভিন্ন জটিল রোগ ছড়ায় এমন পোকা-মাকড় এরা খায়। বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার বিস্তার ঘটায় এমন মশাও খেয়ে ফেলে। ব্যাঙ ভুমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যাঙ একটি উপাদেয় খাদ্য। বহুযুগ ধরেই মানুষ ব্যাঙকে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক খাবার হিসেবে গ্রহন করে আসছে। প্রতি বছর সোনা ব্যাঙ রপ্তানী করে বাংলাদেশ প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার অর্জন করে। কিন্তু এ সময়ে ফসলে বিভিন্ন পোকার আক্রমণে আমরা হারিয়েছি কোটি কোটি ডলার।
ডোরাকাটা ব্যাঙ। ছবি: সংগৃহীত
০৩. কেঁচো
কেঁচো’কে প্রকৃতির লাঙল বলা হয়। কেঁচো মাটি খুঁড়ে মলত্যাগের সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থ বের করে ‘কেঁচো কম্পোস্ট’ তৈরি করে। এই সার সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব; যা ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতা বাড়ানো যায়। রাসায়নিক এবং কীটনাশকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে যার কারণে পরিবেশসহ মানুষ ও জলজ প্রাণীর স্বাস্থ্য ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার করলে একদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে কৃষকরা কেঁচো সার ব্যবহার করে আলু, মরিচ, লাউ, ডাঁটা, ধনেপাতা, লতিকচু, পুঁইশাক, কলমিশাক চাষ করেছেন। যা পরিবেশের জন্য খুবই ইতিবাচক। যে হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, তাতে ধান চাষ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখে না। কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহার যেহেতু দামে কম এবং পরিবেশবান্ধব, তাই এই সার ব্যবহার করে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারি।
কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
০৪. শুঁয়োপোকা
প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অপচনশীল প্লাস্টিক বর্তমানে এক মহাগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বিজ্ঞানীরা জৈবপ্রযুক্তির বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালাচ্ছেন এই সমস্যাটি থেকে মুক্তি পেতে। এর মধ্যে একটি প্রচেষ্টা হলো- বিভিন্ন অণুজীব ব্যবহার করে প্রাকৃতিকভাবে প্লাস্টিক ক্ষয় করা। বিজ্ঞানীরা খেয়াল করেছেন, একটি বিশেষ প্রজাতির শুঁয়োপোকা পলিথিন পরিপাক করতে সক্ষম। মোম শুঁয়োপোকার মথ (Galleria mellonella) মৌচাকের মধু এবং মোম খেয়ে বেঁচে থাকে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে পলিথিনের পর্দার ওপর বেশকিছু শুঁয়োপোকা রেখে একটি পরীক্ষা চালান এবং লক্ষ্য করেন যে- এই প্রজাতির শুঁয়োপোকা ধারণকৃত পলিথিন ব্যাগ খুব দ্রুত ফুটো তৈরি করে। প্রায় একশটি শুঁয়োপোকা ৯২ মিলিগ্রাম প্লাস্টিক মাত্র ১২ ঘন্টায় ক্ষয় করতে সক্ষম।
পলিথিন ক্ষয়ে সক্ষম শুঁয়োপোকা। ছবি: সংগৃহীত
০৫. চড়ুই পাখি
চড়ুই আমাদের কতখানি উপকার করে তা উপলব্ধি করতে চলুন একটি বিখ্যাত সত্যি ঘটনা পড়া যাক। ঘটনাটি চীনের। চড়ুই পাখি ফসল খেয়ে সর্বনাশ ডেকে আনে ভেবে ১৯৫৮ সালে মাও-সে-তুং এর নির্দেশে অসংখ্য চড়ুই নিধন করা হয়। কেননা একটি চড়ুই বছরে ৪ থেকে ৫ কেজি শস্য খায়। সুতরাং, দশ লক্ষ চড়ুইয়ের খাবার বাঁচিয়ে প্রায় ৬০ হাজার ব্যক্তির খাদ্যের যোগান দেয়া যেতে পারে। অতএব শুরু হল প্রচারণা। রাতারাতি তৈরি হল ১ লাখ রঙিন পতাকা। চড়ুই মারার উৎসবে মেতে উঠল গোটা চীন দেশ। ‘স্প্যারো আর্মি’ কাজে লেগে গেল। পুরস্কার ঘোষণা করা হল চড়ুই মারার জন্য। বিভিন্ন পদ্ধতিতে চড়ুই নিধন হতে লাগল। যেমন- খুব জোরে জোরে ড্রাম বাজাতেই চড়ুই উড়ে উড়ে ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়তে লাগল। ডিম নষ্ট করা হল। তছনছ করা হল বাসা। জাল দিয়ে ধরা হল অসংখ্য চড়ুই। বন্দুক দিয়ে মারা হল বাকি চড়ুই পাখি। এভাবে 'দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইন' নামে প্রচারণার মাধ্যমে চড়ুইশূন্য হল চীন। ১৯৬১-৬২ সাল। চীনে দেখা দিল দুর্ভিক্ষ। মারা গেল প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন মানুষ। ফসলের ক্ষেতে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ এমনভাবে বেড়ে গেল যে- ক্ষেত থেকে ফসল আর ঘরেই তোলা গেল না। শুরু হলো দুর্ভিক্ষ আর মৃত্যুর মিছিল। টনক-নড়ল দেশটির সরকারের। নিরুপায় হয়ে প্রকৃতিতে চড়ুই ফিরিয়ে আনতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শুরু হল চড়ুই আমদানি।
চড়ুই প্রধানত শস্যদানা, ঘাসের বিচির পাশাপাশি অসংখ্য পোকামাকড় খেয়ে থাকে। বিশেষ করে পোকার শুককীট, মুককীট বা লেদাপোকা যারা শস্য উৎপাদনের অন্তরায়। এরা যেসব প্রজাতির পোকামাকড় খায় তাদের মধ্যে বিটল পোকা, ছাড়পোকা, পিঁপড়া, মাছি উল্লেখযোগ্য। চড়ুই এসব পোকার ক্ষতিকর আক্রমণ থেকে ফসল, সবজির ক্ষেত, বনাঞ্চল বাঁচিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
মানুষের ভালবাসায় সিক্ত দুই চড়ুই পাখি। ছবি: সংগৃহীত
০৬. শকুন
প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে শকুন একটি পরিচিত পাখি। নানা ধরনের মরা-পচা খেয়ে রোগ-জীবাণুর হাত থেকে যেমন আমাদের রক্ষা করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। এরা মরা-পচা বিশেষ করে গরু-ছাগল প্রভৃতির মৃতদেহ খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে। এদের সকালের দিকে তেমন নড়াচড়া করতে দেখা যায় না। রোদের প্রখরতা কমলে এরা আকাশের অনেক উঁচুতে উড়ে উড়ে খাবার খোঁজে। খাবারের সন্ধান পেলে দ্রুত নিচে নেমে গোগ্রাসে দলবেঁধে খাওয়া শুরু করে। পানি পেলে এরা গোসল করে এবং পানি খায়। শকুন দিবাচর পাখি হলেও কখনও কখনও সন্ধ্যার পর খাবার খেতে দেখা যায়। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দলবেঁধে বিচরণ করে। এরা শিকারি পাখি না হওয়ায় সুস্থ প্রাণীর ওপর আক্রমণ করে না। শুধু মৃত প্রাণীই খেয়ে থাকে। বর্তমানে এই উপকারী পাখিটি মানুষের অসচেতনতা, অজ্ঞতা, অবহেলা আর অদূরদর্শিতার কারণে অতিবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দিন দিন অস্বাভাবিকহারে শকুনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এভাবে চললে অদূরভবিষ্যতে এরা যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলা শকুন আমাদের দেশের স্থায়ী পাখি।
ডালে বসার পূর্বমূহুর্তে শকুনের বডি ল্যাংগুয়েজ। ছবি: সংগৃহীত
০৭. বোলতা
বোলতা স্বচ্ছ দুই জোড়া পর্দা যুক্ত এক প্রকার আক্রমণাত্মক হুল ফোটানো উড্ডয়নক্ষম পোকা। সবচে’ বড় প্রকারের বোলতাকে ভীমরুল নামেও ডাকা হয়। এটি ক্ষতিকারক মথ বা মাজরা জাতীয় পোকার ডিম নষ্টকারী পোকা হিসেবে পরিচিত। বোলতার উদরের পশ্চাতে ডিম পাড়ার অঙ্গটি পরিবর্তিত হয়ে হুল তৈরি হয়েছে। এদের হুলে বিষাক্ত পদার্থ থাকে; যা দিয়ে এরা শিকার’কে আক্রমণ করে থাকে। মৌমাছির মতো এদের দেহে লোম থাকে না। বোলতা অন্য পোকামাকড়ের শুককীটের মধ্যে ডিম পাড়ে এবং সেই ডিম থেকে জন্ম নেয়া বোলতা কীটগুলো অন্য পোকার শুককীট গুলোকে খেয়ে বড় হয়। এজন্য কৃষিজ পতঙ্গ নিবারণে বোলতাদের সাহায্য নেয়া হয়।
বোলতা ফসলক্ষতিকারক পোকাকে ধ্বংস করছে। ছবি: সংগৃহীত
০৮. মৌমাছি
আদিকাল থেকে মৌমাছি মানুষের নিকট অতি পরিচিত এক প্রকার ক্ষুদ্র, পরিশ্রমী ও উপকারী পতঙ্গ। সাধারণত দলবদ্ধভাবে বাস করে বলে এদেরকে সামাজিক পতঙ্গ বলা হয়। মৌমাছি থেকে আমরা মধু ও মোম পাই। কোন কোন প্রকার মৌমাছি বাক্সবন্দী করে চাষ করে মধু উৎপাদন করা হয়। দেশে খাটি মধুর চাহিদা পূরণ করে পুষ্ঠিহীনতা রোধে মৌমাছি সাহায্য করে। মোম, মোমবাতি, প্রসাধনী যেমন কোল্ড ক্রীম, সেভিং ক্রীম, স্নো ইত্যাদিসহ বিভিন্ন প্রকার ঔষধ তৈরিতে মধু ব্যবহার করা হয়। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় মৌমাছিরা তাদের পা, বুক, এবং লোমে ফুলের অসংখ্য পরাগরেণু বয়ে বেড়ায়। এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়লে পরাগায়ন ঘটে। ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে কৃষিজ, ফলদ ও বনজ গাছ-পালার ফলন ও গুণগতমান বৃদ্ধি করে ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছি। ছবি: সংগৃহীত
০৯. মাকড়শা
মাকড়শা অমেরুদন্ডী শিকারী কীট বিশেষ। এদের শরীর মাথা ও ধড় দুটি অংশে বিভক্ত। কিছু মাকড়শা জাল বুনে শিকার ধরে আবার কোনো কোনো মাকড়শা লাফিয়ে শিকার ধরে। এদের চার জোড়া পা আছে। সব মাকড়শার একজোড়া বিষগ্রন্থি আছে। এদের অনেকের কামড় খুব বিষাক্ত। তবে সবাই প্রাণঘাতী নয়। মাকড়শা পরিবেশের জন্য উপকারি একটি অমেরুদন্ডী কীট। সারাবিশ্বে প্রতিবছর কী পরিমাণ খাদ্য মাকড়সার পেটে যায় তার হিসাব কষেছেন একদল সুইস বিজ্ঞানী। তাদের এই হিসাব সারা দুনিয়ার বিজ্ঞানীদের চমকে দেয়। সুইজারল্যান্ডের প্রখ্যাত বাজেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, মাকড়সারা প্রতিবছর আনুমানিক ৪০ থেকে ৮০ কোটি টন খাবার খায়। আর মাকড়সার খাবারের তালিকায় রয়েছে ছোট ছোট প্রাণী। গবেষকরা বলছেন, প্রতি বছর মানুষও প্রায় একই পরিমাণ মাংস ও মাছ জাতীয় খাবার খেয়ে থাকে। প্রাণীজগতের ফুড চেইন বা খাদ্য-শৃঙ্খলে এবং পোকা-মাকড় নিধনে মাকড়সার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন হবে। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত ব্রিটিশ লেখক উইলিয়াম ব্রিস্টোর ‘দ্য ওয়াল্ড অব স্পাইডার নামের’ শিরোনামের একটি বইতে বলা হয়েছিল- প্রতিবছর ব্রিটেনজুড়ে মাকড়সাগুলো যে পরিমাণ পোকা-মাকড় খায় তা প্রায় ব্রিটেনের মোট জনসংখ্যার ওজনের সমান। তিনি যুক্তি দেন যে এই জাতীয় পোকামাকড় মাকড়সাগুলো খেয়ে সাবার না করলে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারত।
জাল পেতে শিকারের অপেক্ষারত মাকড়শা। ছবি: সংগৃহীত
১০. গুই সাপ
গুই সাপকে শত্রু বলে গণ্য করে এদের প্রাণে মেরে ফেলার প্রবণতা বেশি গ্রামীণ জনপদে। কিন্তু গুই সাপ কখনওই মানুষের ক্ষতি করে না। বরং পরিবেশ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুই সাপের বিচরণ থাকলেও বাংলাদেশে এটি অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা পৃথিবীতে ৭৩ প্রজাতির গুই সাপ রয়েছে। আর বাংলাদেশে রয়েছে তিনটি প্রজাতি। ব্যাপকহারে বন উজাড় আর অহেতুক নানা কুসংস্কারের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ অযথা ভয় পেয়ে মেরে ফেলে গুই সাপকে। এমনকি ঘনহারে পুকুর-ডোবা, জমি, খাল-বিল ভরাটের ফলে ওরা বাসস্থল হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রাণী গবেষকদের মতে, পরিবেশের একটি মাংসাশী প্রাণী হিসেবে বস্তুসংস্থানে অথবা প্রকৃতির খাদ্য শৃঙ্খলে অনন্য ভূমিকা রাখছে গুই সাপ। এ ছাড়া বিভিন্ন পঁচা আবর্জনা, মৃত প্রাণী ভক্ষণ করে এটি পরিবেশ দূষণের হাত থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করে।
শিকারের খোঁজে গুই সাপ। ছবি : সংগৃহীত
এই প্রাণীদের বাসস্থান, অবাঁধে বিচরণ, নিধন বন্ধ করা, জমিতে পরিবেশবান্ধব সার ব্যবহার,  নদী ও জলাশয় রক্ষা করার ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আমাদের নিজেদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তবেই তো বাঁচবে পরিবেশ, বাঁচবে দেশ।
সম্পাদনা: শামীমা সীমা
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive