Total Pageviews

Its Awesome!

Sunday, May 7, 2017

 10:52 AM         No comments
'বলতে গেলে এ হাসপাতালে এখন রোগীদের কোনো ওষুধই আর বাইরে থেকে কিনতে হয় না। সব রোগী প্রায় ৯৫-৯৮ শতাংশ ওষুধই হাসপাতাল থেকে পেয়ে যান', এভাবেই গণমাধ্যমে নিজের মত জানিয়ে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মিজানুর রহমান। 

পরিচালকের এমন কথা মনে রেখেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে খোঁজ নেওয়া হয়। সে সময় দেয়ালে দেয়ালে চোখে পড়ে লম্বা তালিকা। সবটাই হাসপাতালে থাকা ওষুধের। যেগুলো আছে সেগুলোর সামনে আলাদা ঘরে ‘টিক’ চিহ্ন দেওয়া আর যেগুলো নেই সেগুলোর সামনে দেওয়া ‘ক্রস’। তবে ক্রসের ঘর প্রায় ফাঁকা। টিক চিহ্ন দেওয়াই বেশির ভাগ ঘরে। অর্থাৎ প্রায় সব ওষুধই হাসপাতালে আছে। সরকারের তরফ থেকে এসব তালিকার ওষুধ বিনা মূল্যে রোগীদের মধ্যে বিতরণের জন্য রাখা আছে। তালিকায় আছে ২২০ আইটেমের ওষুধের নাম।
নতুন ভবনের পাঁচতলায় মেডিসিন ওয়ার্ডের বাইরের করিডরে থাকা রোগীদের চোখের সামনেও জ্বলজ্বল করছে একটি দেয়ালে থাকা ওই ওষুধের নামের তালিকা। তালিকাটি ইংরেজিতে।
ওই তালিকার অল্প দূরে মেঝেতে ঠাঁই পাওয়া রোগী আরজ আলীর জন্য তার এক স্বজন বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে নিয়ে এলেন দুই আইটেমের ওষুধ। হাতে হাসপাতালের টিকিট। ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় থাকা ওই রোগীর টিকিটে বেশ পরিষ্কার অক্ষরেই লেখা আছে একটি স্যালাইন আর দুটি ওষুধের নাম। একটি এজিথ, আরেকটি এলজিন। পাশে থাকা আরেক রোগীর স্বজন কৌতূহলী হয়ে ওই ওষুধের পাতা  হাতে নিয়ে দেয়ালে থাকা তালিকার সঙ্গে বেশ গভীর মনোযোগে মেলাচ্ছিলেন।
তালিকা থেকে চোখ সরিয়ে তিনি বলেন, ‘আরে এ দুটি ওষুধই তো হাসপাতালে আছে, তাইলে আপনারা বাইরে থেকে কিনলেন কেন?’
রোগীর স্বজন অনেকটা অসহায় ভঙ্গি করে বললেন, ‘ভেতরের ডাক্তাররাই তো আনতে দিল। আমরা জানবো কেমনে কোনটা আছে আর কোনটা নাই?’
ওষুধের স্লিপটি নিয়ে ভেতরে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসকের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনিও বলেন, ‘এ দুটো ওষুধই তো আছে।’ তিনি স্লিপটি পাশের নার্সদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। নার্সদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘এ ওষুধ আছে; কিন্তু এই রোগী পাবে না। তার ভর্তি এখনো ক্লিয়ার হয় নাই। যখন পাওয়ার তখন পাবে। ’
কথা শুনে রোগীর স্বজন হতবাক! বলেন, ‘এই যে ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায় আমার রোগীকে রাখা হয়েছে। ডাক্তার ওষুধের কথা লিখ্যা দিছে। তাইলে সমস্যা কী?’ এবার খেপে গিয়ে ওই নার্স বলেন, ‘এত বেশি বুঝতে চাইয়েন না তো! রোগীর কাছে গিয়া বসেন। আমাদের কাজ করতে দেন। ’
কিছুক্ষণ পর গেটের বাইরে ওষুধের স্লিপ হাতে আরেক রোগীর দর্শনার্থীকেও দেখা যায় ফার্মেসির দিকে ছুটতে। কাছে গিয়ে স্লিপে দেখা যায় আবারও সেই এজিথ্রোমাইসিন গ্রুপের ওষুধের নাম। 
জানতে চাইলে মোরশেদ নামের দর্শনার্থী বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট আর বুকে ব্যথা নিয়া আমার রোগী ভর্তি আছেন এই হাসপাতালে। ’ হাসপাতালেই তো ওষুধ আছে, বাইরে কিনতে আসছেন কেন? প্রশ্ন শুনে মোরশেদ বলেন, ‘সব ওষুধ সবাইরে তো দেয় না। আমার রোগীকেও কয়েকটা ওষুধ দিছে, এ ওষুধটা তো হাসপাতাল থেকে দিল না। বলছে কিনে নিতে। ’
হাসপাতালের নতুন ও পুরনো উভয় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ঝোলানো বোর্ডে লেখা দেখা যায়, ‘বাহির হইতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার পূর্বে নিশ্চিত হোন সরকারি সরবরাহে তা আছে কি না।’ নতুন ভবনের লিফট থেকে নেমে পেছনের গেট দিয়ে পুরনো ভবনের দিকে যাওয়ার পথে ওই নোটিশ দেখে থমকে যেতে হয়। 
কাছেই উপস্থিত একজন চিকিৎসকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘হাসপাতালে ওষুধ আছে কি না, সেটা রোগীরা কী করে জানবে? নাকি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক বা নার্সদেরই দায়িত্ব এটা?’
ওই চিকিৎসক কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলেন, ‘এটা কর্তৃপক্ষ ভালো বুঝবে। রোগীদের পক্ষে এটা জানার সুযোগ কম, কারণ রোগীর অবস্থা নিয়ে তখন তার স্বজনরা বিপর্যস্ত থাকে। ওষুধ থাকতেও যদি আমাদের মধ্যকার অসাধু কেউ বলে ওষুধ নেই, তবে স্বজনরা কি তখন এর সত্যতা খুঁজবে নাকি রোগী বাঁচানোর জন্য আগে ওষুধ কিনতে ছুটবে? তাই কর্তৃপক্ষের উচিত ওষুধ বিতরণব্যবস্থার ওপর নজরদারি আরো বাড়ানো। ’
একটু থেমে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘তবে আমরাই তো সাধারণত ওষুধ ঠিক করে দিই। কোনটি আছে আর কোনটি নেই, তা বিবেচনা করি। রোগীর ফাইলে ওষুধ লেখার পর যে ওষুধ হাসপাতালে আছে সেটার জন্য নার্সরাই ব্যবস্থা নেয়, ওয়ার্ডের স্টোর থেকে ওষুধ রোগীদের সরবরাহ করে। আর যে ওষুধ থাকে না, সেটার জন্য রোগীর হাতে আলাদা করে স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরই একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালের একটি চক্র আশপাশের ফার্মেসির সঙ্গে যোগসূত্র করে রোগী বা তাদের স্বজনদের বেশভূষা বুঝে সরকারি ওষুধ না দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে পাঠায়। এর বিনিময়ে তারা পরে কমিশন পেয়ে থাকে। এমনকি হাসপাতালেরই কারো কারো নিজেদের বেনামে ফার্মেসিও আছে। 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দু-একটি আইটেম ছাড়া কোনো ওষুধই কেনার কথা নয় এ হাসপাতালের রোগীদের। তারপরও আশপাশের ফার্মেসিতে কেন এত ওষুধ কিনতে যায় হাসপাতালের রোগী বা তাদের স্বজনরা, বিষয়টি মনিটর করা দরকার। এই মনিটরিংয়ে ঘাটতি রয়েছে। কোন ওষুধের স্লিপ কোন ওয়ার্ডের কে দিয়েছে, সেটা যাচাই করতে পারলে ওষুধের অনিয়ম অনেকটাই রোধ করা যাবে।
সূত্র: দৈনিক কালেরকন্ঠ
প্রিয় সংবাদ/সজিব/রাকিব
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive