Total Pageviews

Its Awesome!

Wednesday, May 17, 2017

 2:03 PM         No comments



 আপন জুয়েলার্সের শোরুমে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর অভিযান চালানোর পর থেকে আতঙ্ক বিরাজ করছে রাজধানীর বেশির ভাগ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাঝে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শোরুম থেকে স্বর্ণালঙ্কার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযানের নামে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।    

গত ২৮ মার্চ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত ও তার বন্ধু নাঈম বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে ধর্ষণের ঘটনার পর অভিযানে নামে এনবিআরের অধীন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। আপন জুয়েলার্স থেকে যেসব স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে মালিকপক্ষ বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি বলে জানান শুল্ক কর্মকর্তারা জানান। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের কোনো ব্যবসায়ী এলসি খুলে বাণিজ্যিকভাবে এক তোলা স্বর্ণও আমদানি করেননি। অথচ রাজধানীর বড় স্বর্ণের দোকানগুলোতে শত শত কেজি স্বর্ণ রয়েছে। এ সব স্বর্ণের বেশিরভাগই চোরাপথে দেশে আনা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। 
জানা গেছে, আপন জুয়েলার্সে অভিযানের পর বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, সীমান্ত স্কয়ারসহ রাজধানীর কয়েকটি স্বর্ণের মার্কেটের বড় বড় শোরুম থেকে অলঙ্কার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। শোরুমের অনেক তাক এখন খালি। 
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির আইন এবং সেটির ওপর আরোপিত শুল্ককর অত্যধিক, যে কারণে সীমিত আকারে সুযোগ থাকলেও স্বর্ণ আমদানিতে তারা উৎসাহী নন। 
তবে গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার অস্বচ্ছ। বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার স্বর্ণের দোকান আছে। এর মধ্যে মাত্র ৫০০টি সমিতির সদস্য।
বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাবেক সভাপতি দীলিপ রায় জানান, আপন জুয়েলার্সে অভিযানের কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ীরা কখনোই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নন। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। সে জন্য এখানে বেশি বেশি ধরা পড়ছে।  
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ডিজি ড.মইনুল খান জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আপন জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।অহেতুক কাউকে হয়রানি করার জন্য এটা করা হয়নি। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হবে। তবে এতে ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার রফতানির লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে প্রথম স্বর্ণালঙ্কার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আজও কার্যকর করা হয়নি। এর পেছনে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতাকে দায়ী করেন তারা। 
এ ছাড়া তাদের দাবি, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার পাশাপাশি সরকার এ খাতের দিকে নজর দিলে দেশে স্বর্ণালঙ্কার শিল্পের প্রসার ঘটত। এ খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ তৈরি হতো। 
সূত্র: সমকাল 
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive