Total Pageviews

Its Awesome!

Tuesday, March 14, 2017

 1:45 PM         No comments



 প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় রাজধানীর পাড়া-মহল্লার অলিগলি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনের রাস্তা এবং আবাসিক এলাকার ছোট-বড় রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে টিনএজার বখাটেদের আনাগোনা বেড়েছে। এরা কখনও দলবদ্ধভাবে, আবার কখনও একাই কিশোরী-তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারীদের উত্ত্যক্ত করছে। এ ছাড়া নানা অছিলায় বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছে।

১৪ মার্চ মঙ্গলবার ‘বখাটের উৎপাতে দুর্বিষহ’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক যায়যায়দিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাড়ার ক্লাবঘরগুলোতে 'ইনডোর গেমের' নামে নিয়মিত মদ-গাজা ও জুয়ার আড্ডা বসাচ্ছে। সেখান থেকে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি চলছে। তাদের এসব অপতৎপরতায় বাধা দিতে গিয়ে স্থানীয়দের অনেকে অপমান-অপদস্ত, এমনকি মারধরের শিকার হচ্ছেন। এতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। গোয়েন্দাদের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এ উদ্বেগজনক চিত্র বেরিয়ে এসেছে।
এদিকে স্কুল-কলেজগামী টিনএজার শিক্ষার্থীদের অশালীন আড্ডাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত তাদের অনেকে পাড়া-মহল্লার ফুটপাত, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থানে আপত্তিকর অবস্থায় বসে থাকছে। কেউ কেউ পাবলিক প্লেসে বসে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখছে। এতে অভিভাবকরা তাদের শিশু-কিশোর সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতে গিয়ে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। 
সম্প্রতি গোয়েন্দারা এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করার পর টিনএজ বখাটেদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি চলতি মাস থেকেই তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এ ব্যাপারে নগরবাসীর ভীতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জোরালো তাগিদ দিয়েছে। বখাটেদের উৎপাত রোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে থানা পুলিশকে পাড়া-মহল্লার স্বীকৃত ক্লাবের পাশাপাশি ভুঁইফোড় ক্লাবের তালিকাও দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব ক্লাবে মননশীল ক্রীড়ার বাইরে তাস-জুয়া কিংবা বাজি ধরে ক্যারম-লুডু খেলা চলে কিনা সে ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নেয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্লাবে বা আড্ডাস্থলে মদ-জুয়ার আসর বসছে তা দ্রুত গুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি এসব অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনাকারীদের আইনের আওয়াত আনতে বলা হয়েছে। 
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বখাটে তরুণ, অসামাজিক ক্লাব, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের তালিকা থানা পুলিশের কাছ থেকে নেয়া হলেও তা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের গাফিলতি কিংবা ভুল তথ্য দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-এসিসহ ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 
পুলিশের সহকারী কমিশনার পদমর্যদার একজন কর্মকর্তা বলেন, নানামুখী চাপে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়ায় টিনএজাররা সবাই এখন ক্ষমতাসীন দলের কর্মী। মিছিল-মিটিং, জনসভা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তারা দলবদ্ধভাবে যোগ দিচ্ছে। শুধু এ কারণেই তারা তাদের নানা বখাটেপনার পরও পলিটিক্যাল গডফাদারদের শেল্টার পাচ্ছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বখাটেদের উৎপাতের ঘটনায় প্রতিদিনই থানাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ছে। গত কয়েক মাসে এ ধরনের অভিযোগে নথিভুক্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সংখ্যক হাজারের কোটা ছাড়িয়ে গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন মাসে প্রায় এক হাজার স্পটে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই শতাধিক বখাটে যুবক।
তবে ভুক্তভোগিদের অনেকের অভিযোগ, এসব ব্যাপারে পুলিশকে জানাতে গেলে পাল্টা অভিযোগকারীকে হয়রানির শিকার হতে হয়। টহল পুলিশ বখাটেদের আড্ডায় মাঝেমধ্যে হানা দিয়ে দুই-চারজনকে ধরলেও থানায় নেওয়ার আগেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের হাত থেকে ফিরে আসার পর তারা ঘরে ঢুকে অভিযোগকারীকে শাসিয়ে যাচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, টপটেররদের অনেকেই এখন ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। তাদের ছত্রছায়ায় সহযোগী সন্ত্রাসীরা মাদক ও জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ কাজে টিনএজ বখাটেদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সহজেই তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানার শ্রমিকসহ নিম্ন পেশার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উঠতি যুবক চাকরি ছেড়ে দিয়ে বখাটেদের দলে ভিড়েছে বলে জানান অপরাধ পর্যবেক্ষকরা।
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive