Total Pageviews

Its Awesome!

Sunday, February 19, 2017

 12:29 PM      ,    No comments


বেড়েই চলেছে ভাষার দূষণ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি আইন ও হাইকোর্টের আলাদা দুটি আদেশ থাকার পরও নিশ্চিত হচ্ছে না সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও বাংলা ভাষার দূষণ রোধ।

বর্তমানে সারাদেশে ইংরেজি ভাষায় লেখা হচ্ছে বিভিন্ন নামফলক, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড ও উচ্চ আদালতের রায়। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কাজের লেখালেখি হচ্ছে ইংরেজিতে।
এমনকি বিভিন্ন আইন এখন পর্যন্ত বাংলায় অনুবাদ করা হয়নি। এছাড়া কোনো কোনো এফএম রেডিও ও টিভির মাধ্যমে দেদারসে চলছে ভাষার দূষণ।
রোববার, ১৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক যুগান্তরের ‘সর্বস্তরে প্রচলন হয়নি বাংলা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন আদেশ দিয়ে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধ সম্ভব নয়। এটি বাঙালিকে মন থেকে নিতে হবে। অন্তর থেকে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা না এলে সর্বস্তরে এর প্রচলন খুবই দুরূহ। যে ভাষা মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে, বিশ্বদরবারে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, সেই ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে হবে। তাহলেই সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ও ভাষার অবক্ষয় রোধ সম্ভব হবে।

সরকারি নথিপত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই বলে দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বাংলায় নথিপত্র লেখার জন্য কর্মকর্তাদের এসিআরে নম্বর যোগ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টে একটি রিট করেন আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বাংলা ভাষা প্রচলন আইন ১৯৮৭ অনুযায়ী অফিস-আদালত, গণমাধ্যমসহ সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করেন।
পাশাপাশি দূতাবাস ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব সাইনবোর্ড, নেমপ্লেট ও গাড়ির নম্বর প্লেট, বিলবোর্ড এবং ইলেকট্রুনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপন বাংলায় লেখা ও প্রচলনের নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও সংস্কৃতি সচিবকে এ আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।

এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রতিবেদন দাখিল করা হয় হাইকোর্টে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে ওই আদেশ বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ নিয়ে হাইকোর্ট গত বছর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দৃশ্যত কোনো ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না।
এ ব্যাপারে রিটকারী আইনজীবী ইউনুস আলী বলেন, আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদালত অবমাননার একটি মামলা করা হয়েছে। সেটির শুনানি হয়নি। এ ছাড়া হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছিলেন, সেই রুলটি শুনানির জন্য বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কার্যতালিকায় আছে।
আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে তিনি সরকারের অসহযোগিতা ও বাংলা ভাষার প্রতি জনগণের অবহেলাকে দায়ী করেছেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাষার দূষণ এখন আরও বেড়েছে। বিশেষ করে এফএম রেডিওগুলোর ভাষা তরুণ প্রজন্মকে ‘বাংহিংলিশ’ শেখাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে, ভাষার দূষণ আরও বেড়ে গেছে। এ সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive