Total Pageviews

Its Awesome!

Wednesday, February 22, 2017

 11:47 AM         No comments


মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও ভাষা শহীদ দিবস। ভাষার দাবিতে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বত্র।

কিন্তু এরইমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিকৃত ও ভুলে ভরা তথ্যে মাতৃভাষা দিবসের ব্যানার ও পোস্টার করা নিয়ে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে তুমুল সমালোচনা।
এ নিয়ে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে কাটা-ছেড়া। সেইসঙ্গে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে মহান একুশ নিয়ে আমাদের স্বকীয়তা ও সংস্কৃতির দৈন্যতার স্পষ্ট দিকটি।
ফেসবুকের কল্যাণে এমন কিছু ব্যানার নিয়ে চলছে জোর সমালোচনা। দেখে নেওয়া যাক এমন কিছু নমুনা-
ফিরোজ পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তির সৌজন্যে চট্টগ্রামের ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগের পক্ষ থেকে নগরীতে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ওই ব্যানারে লেখা ‘হে অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি হাজারো মা বোনের ইজ্জ্বতের বিনিময়ে শহীদ দিবস আমি কি তোমায় ভুলিতে পারি’।
ব্যানারের এক কোণায় বক্স আকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রয়েছে বিশাল বিশেষণ। বিষয়টি নিয়ে তুমুল নিন্দা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে।
একইরকম তথ্য বিকৃতি ও ভুলে ভরা ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে চট্টগ্রামের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা নাহিদুল ইসলাম জাবেদের সৌজন্যে ও যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুর পক্ষে ছাপানো পোস্টারে।
নুরুল ইসলাম বিএসসির আস্থাভাজন উল্লেখ করে যুবলীগ নেতা টিনুর ওই পোস্টারে বলা হয়েছে, ’২১ শে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ৩০ লক্ষ শহীদদের প্রতি জানাই…বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী।’
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ত্রিশ লক্ষ শহীদকে জানানো হয়েছে শ্রদ্ধাঞ্জলী। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে জানান দেওয়ার আরও সরেস উপায় বের করেছেন গাজীপুরের বাংলাদেশ যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ব্যানারে নিজের বড় একটি ছবি ব্যবহার করে তিনি লিখেছেন, ‘গাজীপুর মহানগরবাসী ও সকল ভাষা শহীদকে জানাই রক্তিম ফুলের শুভেচ্ছা।’

গাজীপুর মহানগরবসাী ও শহীদদের একুশের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বড় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে রাজধানীর অন্যতম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ড। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্কুলের করা ব্যানারে শহীদ মিনারের ছবির ওপরে মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি বসিয়েছে তারা। মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি দিয়ে ওই ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’।
একুশের ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি। সংগৃহীত ছবি

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, বাংলার রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ, ভাষার জন্য প্রাণদান আমাদের অনন্য প্রেরণা ও মর্যাদাময় ইতিহাস হলেও এ নিয়ে বিকৃতি ও দায়সারা গোছের শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিয়েও চলছে সমালোচনা।
সচেতনমহল ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, মহান একুশে নিয়ে, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান সময়ে এ তথ্য বিকৃতি ও অনীহার কারণ কী? এর দায়ভারই বা কার?
এদিকে এবারের মাতৃভাষা দিবসেও দেশের উচ্চ আদালতসহ সবখানে পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলা চালুর দাবি ফের জোরালো হয়ে উঠে এসেছে। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন, হিন্দি আর ইংরেজির দৌরাত্মে বাংলা ভাষার পূর্ণ প্রতিষ্ঠার দাবি তাই এখন সময়েরই অন্যতম দাবিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
অপরদিকে অকুতোভয় সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারসহ নাম না জানা শহীদদের বুকের রক্তে বাংলা মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও ভাষাশহীদ দিবসটিতে শোক ও শ্রদ্ধার আবহ আর তেমন নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।
তাদের মত, বর্তমানে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা, বিশেষ করে টিনএজারদের কাছে ভাষা শহীদ দিবসও একরকম ‘ভ্যালেনটাইন ডে’ হয়ে উঠেছে। রাজধানীর রাজপথ, শপিংমল, রেস্টুরেন্টগুলোও সে সাক্ষ্য দেয়।
এছাড়া ভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিকীকরণের জোর প্রচেষ্টাও বেশ দৃষ্টিকটু বলে মনে করেন অনেকে।
অনেকটা একই অবস্থা ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল আবহের। দিনকে-দিন একুশে গ্রন্থমেলাতেও জেঁকে বসছে উৎসবের আবহ।
সচেতন মহলের আক্ষেপ, প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া ভাষা ও স্বকীয়তা নিয়ে আমাদের এ হীনতা-দীনতার দায়ভার বহন করবে কে? এর থেকে উত্তরণেরই বা উপায় কী?
প্রিয় সংবাদ/রিমন
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive