Total Pageviews

Its Awesome!

Thursday, January 26, 2017

 6:08 PM         No comments



পাঠকের প্রশ্ন: সরকার কর্তৃক বিবাহ আইন অনুযায়ী ছেলে ও মেয়ের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ বছর। এছাড়া গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে মোটামুটি সবার ৩০ বছর লেগে যায়। শিক্ষা শেষে চাকরি তথা আয়ের উৎস খুঁজে নিতে নিতে ৩৫ বছর পেরিয়ে যায়। অন্যদিকে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনেরাও চায় না এর আগে তাদের সন্তানদের বিয়ে দিতে। ফলে এসব রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক নিয়মনীতি ও বাধ্য বাধকতার কারণে কোনো ছেলে মেয়ে উক্ত সময়ের পূর্বে ইচ্ছা করলেও বিয়ে করতে পারে না। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই প্রায় ১৫ বছর থেকে ছেলে মেয়ের মাঝে যৌবন তথা পারস্পরিক আকর্ষণ তৈরি হয়ে যায়। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী একে অপরের সাথে মিলিত হতে চায়। অনেকেই শত চেষ্টা করার পরেও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারে না। সমাজ ও পরিবারের আড়ালে বেছে নেয় প্রেম, ভালোবাসা, অবৈধ মেলামেশা। আর এটি চলতে থাকে ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত। ইসলামী শরীয়তে বিবাহপূর্ব প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম ও জিনা। আমার প্রশ্ন হলো এই দীর্ঘ ১৫-২০ বছরের সকল জিনার পাপের শাস্তি শুধু কী ছেলে মেয়েরা একাই ভোগ করবে? নাকি পরিবার, সমাজ, সরকারকেও ভোগ করতে হবে? আমি ইসলামি আইন অনুসারে জানতে চাই।
প্রশ্নটি করেছেনঃ Shamim Hossain



বিশেষজ্ঞের উত্তর: তোমার হয়ত বর্তমান বিবাহ আইন ভালোভাবে জানা নেই। আইনে উল্লেখ আছে, কোনো পরিবার যদি উল্লিখিত বয়সের আগে কোনো বিশেষ কারণে তাদের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে চায় তাহলে আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে তা করতে পারবে।
আমার মতে, সরকারের বেঁধে দেয়া ২১ বছর বয়সে বিয়ে করলে সমাজের জিনা ব্যভিচার অনেকাংশে কমে যাবে। ১৫ বছর থেকে ২১ বছর পর্যন্ত নিজেকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বাধ্য বাধকতার অজুহাতে পাপে জড়ানো ঠিক নয়। নিজেকে পবিত্র রাখতে পারাটাই বিরত্বের কাজ। তবে, রাষ্ট্রীয় বাধ্য বাধকতা থাকলেও পরিবার যদি আন্তরিক হয় তাহলে ছেলে মেয়েরা পাপের পথে পা বাড়ানোর আগেই বিবাহ নামক পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে তাদেরকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারেন। সে সুযোগ কিন্তু আছে। আমাদের পিতা মাতাদের এ বিষয়ে ইসলামি জ্ঞান থাকা জরুরি।
কাল কিয়ামতের ময়দানে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক দায়িত্ববান ব্যক্তি তথা- পিতা, মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতিসহ সকল স্তরের দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। দুনিয়ায় সঠিক দায়িত্ব পালন না করলে এর শাস্তিও ভোগ করতে হবে। তবে দায়িত্বশীলগণ শাস্তি পেলে আমি শাস্তি থেকে পার পাব এমন কোনো কথা নেই। আমি যদি জিনা করি তার জন্য আমাকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। কেননা শরিয়তে বিয়ে না করতে পারলে জিনা থেকে বাঁচার অন্য কৌশল বাতলে দেয়া আছে। তাকওয়া, রোজা, পরকালের ভয় ইত্যাদি মানুষকে যেকোনো পাপ থেকে মুক্ত রাখতে পারে। আল্লাহ আমাদের যুব সমাজকে এই কঠিন ফেতনার জামানায় পবিত্র থাকার তৌফিক দিন। আর আমাদের পিতা মাতাদেরকে আল্লাহ সুমতি দান করুন যেন তারা তাদের সন্তানদের যৌবনের সঠিক সময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। শুকরিয়া
পরামর্শ দিয়েছেন :
মুহাম্মদ আমিনুল হক
সহযোগী অধ্যাপক
ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
পিএইচডি গবেষক
কিং আব্দুল আজীজ ইউনিভারর্সিটি জেদ্দা
সৌদি আরব।
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive