Total Pageviews

Its Awesome!

Saturday, January 28, 2017

 9:58 PM         No comments
কিশোর অপরাধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে এ জগৎ। তাছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটও তাদের অপরাধপ্রবণ করে তোলে।


যে বয়সে তাদের লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সে তারা হারিয়ে যেতে বসেছে নানা অপরাধমূলক কাজে। বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে, ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীরা অপরাধে বেশি জড়াচ্ছে।
দেশের দুই কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেখানে থাকা কিশোরদের ২০ শতাংশ খুনের মামলার আর ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলোর বেশির ভাগই ধর্ষণের অভিযোগে করা।
শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আসা এসব কিশোরের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের সন্তান যেমন আছে, তেমনি আছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানও। তাদের অনেকে মাদকাসক্তও হয়ে পড়ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির খুন হয়। নাইন স্টার ও ডিসকো বয়েজ নামক দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে খুন করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে তেজগাঁওয়ে ‘সিনিয়রিটি’ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয় আবদুল আজিজ নামে এক কিশোর।
এছাড়া গত বছরের ২৬ আগস্ট হবিগঞ্জ শহরের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী  স্কুল ছুটি শেষে তার সহপাঠীর সঙ্গে বাসায় ফিরছিল। এ সময় এক কিশোর আকস্মিক তার সামনে এসে দাঁড়ায় এবং তার চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া ও কিল-ঘুষি মারে। এতে ছাত্রীটির সহপাঠীসহ পথচারীরা হতভম্ব হয়ে যায়। তবে কেউ এর প্রতিবাদ করেননি। এ ঘটনা কয়েকজন মুঠোফোনে ভিডিও করেন। এ ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ভিডিও চিত্র দেখে পুলিশ ওই কিশোরকে শনাক্ত করে।
বাংলাদেশের ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী, ৯ থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের কোনো ছেলেশিশু অপরাধে জড়ালে তাদের গাজীপুরের টঙ্গী ও যশোরের পুলেরহাটের কিশোর (বালক) উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়। এই দুটি কেন্দ্র থেকে সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য পাঠানো হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। ওই দিন কেন্দ্র দুটিতে ছিল ৫৯৭ জন কিশোর। তাদের মধ্যে ১২০ জন হত্যা মামলার আসামি। ১৪২ জন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলা এবং ৯ জন তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলার আসামি।
এর বাইরে চুরির মামলায় ৮৯, ডাকাতি ১৬, ছিনতাই ৬, মাদক মামলায় ৬৬, অস্ত্র মামলায় ২০ ও বিস্ফোরক মামলায় আছে ৫ জন। অন্যরা সাধারণ ডায়েরিসহ বিভিন্ন মামলার আসামি।  
এছাড়া গাজীপুরের কোনাবাড়িতে নির্মিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রটি মেয়েদের জন্য।
অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকেরা বলছেন, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, আকাশ সংস্কৃতি ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বা তথ্যপ্রযুক্তি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ।
গত বছরের ১৫ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে আকিব হোসেন (১৭) নামে এক কিশোর। জানা যায়, বন্ধু রুবেলের সঙ্গে ‘পুরনো দ্বন্দ্বের’ জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সামাজিক মনোচিকিৎসা বিভাগের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। কিশোরেরা ইন্টারনেট সংযোগসহ মুঠোফোন ব্যবহার করছে। তারা যা দেখছে বাস্তবে তা ঘটিয়ে বসছে’।
সূত্র: প্রথম আলো
প্রিয় সংবাদ/এআই
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive