Total Pageviews

Its Awesome!

Tuesday, December 13, 2016

 2:14 PM         No comments
অনলাইনে কেনাবেচার জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছোট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিশ্বমানের মার্কেটপ্লেসগুলোর বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। এতে বিপদে পড়ছেন নতুন উদ্যোক্তারা। এ খাতের সঠিক নীতিমালা না থাকায় এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা হরহামেশাই হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ই-কমার্স খাতের শীর্ষস্থানীয় সাইট কেইমু.কম.বিডি ও দারাজ.কম.বিডি’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা। দেশের শীর্ষ এই অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো বাজার মূল্যের চেয়ে কমে, আকর্ষণীয় দামে, ভালো ব্র্যান্ডের-উন্নতমানের পণ্য দেওয়ার কথা বললেও ডেলিভারি দেওয়ার সময় পাল্টে যায় পুরো চিত্র। দেওয়া হয় কম দামি ও নিম্নমানের পণ্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহকদের সঙ্গে এমন ব্যবহার ও সেবার কারণে অনেকেই ই-কমার্স বিমুখ হচ্ছেন। একই সঙ্গে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ই-কমার্স সাইটগুলো, ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এ খাতের ছোট ছোট ব্যবসায়ীসহ নতুন উদ্যোক্তারাও।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস আকারে ক্রেতার অভিযোগের স্ক্রিনশট
অভিযোগকারীদের মধ্যে খোকন আলম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, গত ৩০ নভেম্বর আমি দারাজ.কম.বিডি থেকে ‘রেডমি থ্রি এস প্রাইম ৩২জিবি গোল্ড’ স্মার্টফোনটি অর্ডার করেছিলাম। অর্ধশতবার ফোন করে এবং প্রায় ১০দিন অপেক্ষার পরে তারা ফোন পাঠায় আমার কাছে।
অনলাইনে ফরমায়েশের স্ক্রিনশট
তিনি বলেন, ‘আসল বিপত্তিটা ঘটে আরও পরে। দারাজ আমাকে ফোন ঠিকই পাঠায় কিন্তু সেটা ছিল ‘রেডমি থ্রি এস প্রাইম ১৬ জিবি গোল্ড’। কেমন লাগে? প্রতারণা করার একটা সীমা থাকা উচিত। আবার কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলেও তাদের লাইনে পাওয়া যাওয়া না। এক্ষেত্রে কল সেন্টারে বারবার কল করেও প্রচুর টাকা অপচয় হচ্ছে। এইসব ব্যপারগুলো কে দেখবে?’
দারাজ.কম.বিডি থেকে পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক গ্রাহক। কুমিল্লায় থাকা ওই গ্রাহক প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘আমি দারাজ.কম.বিডি থেকে ইএফআইটি ৫৩৩বি (হলুদ ও কালো) মডেলের একটি এক্সারসাইজ বাইক অর্ডার দিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা (দারাজ) যখন আমাকে পণ্য বুঝিয়ে দিল, তখন আমি দেখলাম ইএফআইটি ৫৩৩এফ (কালো) মডেল পাঠিয়েছে। যার দাম ওই সাইকেলের তুলনায় কয়েক হাজার টাকা কম’।
প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকের অভিযোগ
‘আমি যতক্ষণে বুঝতে পেরেছি, ততক্ষণে এটা পুরোটাই ফিট করে ফেলেছি। পরে দারাজ’র কল সেন্টারে ফোন দিলে তারা নিজ খরচে সেটা ঢাকায় পাঠাতে বলে। তারপর তারা চেক করবে, যদি তাদের ভুল হয় তাহলে সম্ভব হলে আমার অর্ডার করা পণ্যটি পাঠাবে, না হয় আমার টাকা ফেরত দিয়ে দিবে। তখন হিসাব করে দেখলাম যদিও টাকা ফেরত দেয় বা পণ্য পাঠায় তাহলে ঢাকায় পাঠানোর টাকাটাই আমার লস’, যোগ করেন তিনি।
ফরমায়েশ করার স্ক্রিনশট এবং ডেলিভারি দেওয়া বাইকের কাগজের ছবি।
ক্ষতিগ্রস্ত এই গ্রাহক আরও বলেন, ‘এরপর এই বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর দারাজের পক্ষ থেকে ফোন করে আমার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে। একই সঙ্গে স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে দিতে বলে। তবে প্রায় এক সপ্তাহ পরে কিছু টাকা বিকাশের মাধ্যমে ফেরত দেয়। এই যদি হয় ই-কমার্সের অবস্থা, তাহলে গ্রাহকের আস্থা থাকবে কি?’
জনপ্রিয় আরেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস কেইমু.কম.বিডি থেকে পণ্য কিনে প্রতারিত হয়েছেন মেহেদী জামান। ফেসবুকে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেছেন। 

মেহেদী জামানের স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট।
তিনি লিখেছেন, কেইমু থেকে কেনা আরেকটি শাওমি ‘এমআই’ পাওয়ার ব্যাংকের স্পেশালিটি হলো সারারাত চার্জ দেবার পর মাত্র ৫ মিনিট আউটপুট দিতে পারে। কোথাও ‘এমআই’ লেখা নেই। অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণা করার জন্য কার কাছে বিচার চাইব বলতে পারেন?

ওই স্ট্যাটাসে মন্তব্যের ঘরে অভিযোগ করেন আরও একজন। কাওসার হাসান নামের ওই ব্যক্তি লিখেন, কেইমু’র নামে অভিযোগ আর নতুন কি? পাওয়ার ব্যাংক আমিও নিছিলাম একটা, ১ হাজার টাকার মতো দাম পড়েছিল। কিন্তু পাওয়ার আর পাই নাই। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোর পর বলে, তাদের কোনো ফল্ট নাই, ডেলিভারি ম্যান চেঞ্জ করে দিতে পারে। পরবর্তীতে লজ্জায় কাউকে বলতে পারি নাই যে, অনলাইন থেকে কিনেছিলাম। আমি মনে করি ই-কমার্স সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এদের মতো ভণ্ডদের তাড়াতে হবে। অন্যথায় যারা আসলেই এই সেক্টরটাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চান, যারা ব্যবসা করার জন্য নয় সেবা দেওয়ার জন্য বা সেবা দিতে চাচ্ছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তৌহিদুল ইসলাম সোহান মন্তব্য করেছেন, খুলে দেখেন। ব্যাটারি আছে না বালি ভরে ওজন বাড়িয়েছে! কেইমু’র কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ করেন সেলারের নামে।
একই স্ট্যাটাসে ইমতিয়াজ খান মন্তব্য করেন, বড় বড় মার্কেটপ্লেস থেকে কেনাকাটা না করাই ভালো। বাংলাদেশে প্রতারণার শীর্ষে আছে এরাই, কেইমু ও দারাজ। মার্কেটিং এর পেছনে কোটি টাকা খরচ করে তা তুলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় ভালো সার্ভিস ও কোয়ালিটি প্রোডাক্টের ওপরই গুরুত্ব দেয়।
স্ট্যাটাসে মন্তব্যের স্ক্রিনশট
এ দিকে এ ধরনের সমস্যার সমাধান নিয়েও মন্তব্য করেছেন অনেকেই। জাহিদুর রহমান খান মন্তব্য করেন, ডেলিভারির সময় দেখে নিতেন, আর কেইমু তো ৩ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার পলিসি ফলো করে, আপনি ফেরত দিলেন না কেন? এর উত্তরে মেহেদী লিখেন, তাদের দেওয়া বিলের মধ্যে কিছুই লিখা ছিল না।

এ নিয়ে রাজিন দেবনাথ টিটু লিখেছেন, এই জায়গায় সবার একটা ভুল ধারণা রয়েছে। কেইমু কখনই কোনো প্রোডাক্ট বিক্রি করে না। কারণ কেইমু হলো অনলাইন মার্কেট। আর এ মার্কেটে বিক্রেতা অনেক। যখন কোনো অর্ডার আসে, তখন কেইমু এসব বিক্রেতার কাছে অর্ডার প্লেস করে। এখন যদি বিক্রেতাদের মধ্যে কেউ ফ্রড থাকে তার ব্যবস্থাও আছে। আপনি আপনার অর্ডার নম্বরটি কেইমুকে দিন এবং আপনার অভিযোগ তাদের জানান। ওই প্রতারক বিক্রেতাকে ব্লক করার পাশাপাশি তারা অবশ্যই কোনো সমাধান দেবে।
এ বিষয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি রাজিব আহমেদ প্রিয়.কম-কে বলেন, ইতোমধ্যে এমন অনেক পোস্ট আমাদের গ্রুপে এসেছে। আমরা এসব অভিযোগ লিখিতভাবে দেওয়ার জন্য বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা এসব নিয়ে দারাজ-কেইমু’র সঙ্গে বসতে পারি এবং তাদেরও একটা নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, কেন এমনটা হচ্ছে? এই বিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম বড় মার্কেটপ্লেসগুলোর সঙ্গে। আমরা দেখেছি দারাজ, কেইমু, আজকের ডিলের মতো বড় কোম্পানিগুলো মার্চেন্ট সিলেকশন করে ইচ্ছেমতো। পণ্যগুলো সরাসরি মার্চেন্ট থেকে আসে।
গ্রাহক প্রতারণা ঠেকাতে এসব বিষয় নিয়ে প্রথম থেকেই কাজ হচ্ছে জানিয়ে রাজিব দাবি করেন, আমরা ছোট ছোট ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু কেইমু, দারাজ, আজকের ডিলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা পাইনি। আমাদের ছোট সংগঠন দেখে আসতে চায়নি।
‘তবে এইটুকু নিশ্চিত করতে পারি, আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে আমরা একটা নীতিমালা করে ফেলব। একই সঙ্গে দারাজ, কেইমু, আজকের ডিলের মতো বড় মার্কেটপ্লেসগুলোসহ সব ই-কমার্স সাইটগুলোকে একটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে নিয়ে আসতে পারব,’ সবার সহযোগিতা চেয়ে বলেন রাজিব।
শুরুতে দারাজ.কম.বিডি ও কেইমু.কম.বিডি প্রতিষ্ঠান দুটি আলাদাভাবে কাজ করলেও পরবর্তীতে একীভূত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটি চালাচ্ছে মূলত দারাজ.কম.বিডি।
ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে দারাজ.কম.বিডির মোবাইলস অ্যান্ড কম্পিউটিং’র হেড অব ক্যাটাগরি আয়ান মমিন প্রিয়.কম-কে বলেন, ‘প্রোডাক্ট পরিবর্তন হয়ে গেছে বলে যে অভিযোগ আছে, আমাদের সেই ভুলগুলো হতে পারে। অভিযোগ পেলে আমরা এসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে দেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের ভুলের সঙ্গে গ্রাহকের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কারণ ডেলিভারি করার সময় গ্রাহক যদি তার পণ্য ভালো করে চেক না করে, তার দায়ভার কী আমাদের। কিন্তু গ্রাহকের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে যদি আমরা ভুল-ত্রুটি পাই, অবশ্যই তার পণ্য আমরা পরিবর্তন করে দিব।
ঢাকার বাইরে পাঠানো পণ্য ক্রেতাকে নিজ খরচে ঢাকায় পাঠানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রাহক যদি কোনোভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন সেই ক্ষেত্রে আমরা ওই গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু তার আগে আমাদের নিজেদের ভেরিফাই করতে হবে যে অভিযোগটা সত্যি কিনা।
কেইমু’র পণ্যের গুনগত মান প্রসঙ্গে আয়ান মমিন বলেন, কেইমু যেহেতু অনেকগুলো মার্চেন্ট নিয়ে কাজ করে, তারা সরাসরি নিজেরা কোনো পণ্য বিক্রি করে না। অনেক সময়ই সব পণ্যের গুনগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে কিছু কিছু পণ্যের ত্রুটি থাকতেই পারে। যেহেতু পণ্যগুলো ইলেকট্রনিক্স পণ্য। তবে আমরা আরও সতর্কভাবে আমাদের সেবাগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।

সম্পাদনা: এম আলম/তানজিল রিমন
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive