Total Pageviews

Its Awesome!

Tuesday, December 20, 2016

 9:42 PM         No comments
নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ তৈরি, মজুত ও বিক্রি বন্ধে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ গঠন করবে সরকার। ‘জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬’তে এই কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওষুধনীতির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওষুধনীতির খসড়ায় বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আইনে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হবে। ওষুধের দাম ওয়েবসাইটে থাকবে। কেউ বেশি দাম নিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিতে বলা হয়েছে, ৩৯টি ছাড়া সব ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে কিনতে হবে। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কেনা বা বিক্রি করা যাবে না।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বিশ্বের ১২২টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ ও স্বীকৃতি লাভ করেছে বাংলাদেশের ওষুধ। প্রায় ১১ বছর পর আন্তর্জাতিক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নীতিমালাটি যুগোপযোগী করা হয়েছে।
নতুন এই ওষুধনীতিকে জনবান্ধব বলে বর্ণনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৮২ সালের প্রথম নীতিতে ও ২০০৫ সালের ওষুধনীতিতে নকল ও ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে কথা ছিল। তবে এই নীতিতে প্রথমবার নকল-ভেজাল বন্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করতে বলে। এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করে সরকার। নতুন ওষুধনীতিতে ২৮৫টি ওষুধকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ছিল ১১৭টি। ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি ওষুধকে এবার ওষুধনীতির আওতায় আনা হয়েছে। ৬৯৩টি ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দেশে প্রথম ওষুধনীতি হয়েছিল ১৯৮২ সালে, সামরিক শাসনামলে। ওই ওষুধনীতি তৈরিতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। নতুন ওষুধনীতি সম্পর্কে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কেনা যায় এমন ওষুধ ৮ থেকে ১০টা হওয়া উচিত। নতুন নীতিতে অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথিসহ প্রায় ৭০টি ওষুধকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নীতিমালায় নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন কমিটিতে ওষুধ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি রাখার বিষয়টি জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব শফিউজ্জামন প্রথম আলোকে বলেন, নীতিমালা বাস্তবায়ন হচ্ছে আসল বিষয়। বাস্তবায়ন করতে হলে আইন দরকার। ওষুধনীতির সুফল পেতে সরকারকে যুগোপযোগী আইন করতে হবে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে ওষুধনীতি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নীতির খসড়া প্রণয়নে গঠিত ১১ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। ওই কমিটি ২০১২ সালে প্রথম খসড়া জমা দেয়। এরপর ২০১৩ সালে কমিটি খসড়া পরিমার্জন করে আবার জমা দেয়।
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive