Total Pageviews

Its Awesome!

Sunday, December 11, 2016

 9:22 AM         No comments


যৌনতা শুধু প্রাণীকূলেই নয়, বিষয়টি রয়েছে উদ্ভিদের মধ্যেও! তবে এর মানে এই নয় যে সব বিষয়েই আমরা অবগত আছি। অনেক বিষয়ই আছে যেগুলো এখনও অজানা, থেকে যায় রহস্যও। 
সাধারণভাবে বললে, যৌন প্রজনন খুবই মূল্যবান প্রয়াস। এজন্যে মানবজাতির ক্ষেত্রে একজন পুরুষ ও নারী প্রয়োজন। আর যৌন মিলনের মাধ্যমে যেসব প্রজাতি সন্তান জন্ম দেয় তারমধ্যে সক্ষম শুধুমাত্র পুরুষ। 
ডারউইন ও প্রকৃতির কাটথ্রট নিয়ম এবং যৌন প্রজননের বিবর্তনবাদ নিয়ে তথ্য থাকলেও কেন যৌনতা টিকে থাকে বা  কেন বেশিরভাগ জীবই এ প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদান করে সেটা খুবই কঠিন বা গভীর কৌতূহলের বিষয়।

বায়ো ১০১

প্রজনন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো জীব (অভিভাবক) নতুন কোনো জীবের জন্ম দেয়। এটা সাধারণত দুইভাবে হয়।  এরমধ্যে অযৌন প্রজনন ও অন্যটি যৌন প্রজনন। 
অযৌন প্রজননের মাধ্যমে কোনো জীব নিজে নিজেই তার বংশধরের জন্ম দিতে পারে। যেমন বাডিং ও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া যায় নতুন বংশধর। 
অযৌন প্রজননের উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হচ্ছে-এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী বংশদের সঙ্গে তার জন্মদাতার মিল থাকে। 
অন্যদিকে যৌন প্রজননের ক্ষেত্রে দু’টি জীবের মিলনের প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় একজন পুরুষ ও  অন্যজন নারী। 
এক্ষেত্রে উভয়ের যৌন মিলনের মাধ্যমে নারী গর্ভধারণ করেন ও সন্তান জন্মদান করেন। একই প্রক্রিয়া অন্যান্য জীবজন্তুর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্ষেত্রে নতুন বংশধরের মধ্যে নারী কিংবা পুরুষ উভয়েরই জিন থাকে এবং এতে কখনই একজনের বৈশিষ্ট্য থাকে না। 
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যে কোনো শিশুর চুলের রং তার জন্মদাতার মতো হতে পারে। আর চোখ হতে পারে অন্যজনের মতো কিংবা একবারেই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে। 

যৌন প্রজননের সবচেয়ে বড় সমস্য কী?

বিষয়টি নির্বাচনে প্রকৃতি খুব নির্মম এবং দক্ষ হলেও যৌন প্রজননের বিষয়টি খুব বেশি দক্ষ নয়। অযৌন বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজনই জন্মদানে সক্ষম।  
সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দু’টি হাইড্রা আলাদাভাবে বংশধর জন্মদানে সক্ষম। মানুষের বেলায় একজন নারী এবং একজন পুরুষ মিলে শুধুমাত্র একজনকে জন্ম দিতে সক্ষম হন। 

ইস্টের প্রজনন

যৌন প্রজননের ক্ষেত্রে জন্ম নেওয়া বংশধরের মধ্যে জিনগত পার্থক্য থাকে। এভাবে প্রজননের ফলে জন্ম নেওয়া নতুন বংশধরের মধ্যে প্রকৃতিতে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা তার অভিভাবকের চাইতেও বেশি। 
এটা শুধুমাত্র একটি ধারণা মনে হলেও এর রয়েছে গবেষণামূলক তথ্য।
অযৌন ও যৌন উভয় প্রক্রিয়ায় খুব কম জীবই জন্মদান করে। এরমধ্যে ইস্টের বংশ বিস্তার নিয়ে গবেষণা করেছেন গবেষকরা। 
তারা বলছেন, যখন খাদ্যের প্রাচুর্যতা থাকে তখন অযৌন প্রক্রিয়ায় জন্মদান করে ইস্ট। কিন্তু যখন পর্যাপ্ত খাবারের অভাব থাকে তখন ইস্ট যৌন প্রজনন ঘটায়। 
২০০৫ সালের আগে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক ম্যাথিউ গোডার্ড জিনগতভাবে ইস্টের জন্মদান পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, ফলে বিরূপ অবস্থায়ও ইস্ট অযৌন প্রক্রিয়ায় জন্মদানে সক্ষম হয়। 
গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণ পরিস্থিতিতে উভয়েই ভালোভাবে জন্মদান করেছে কিন্তু বৈরি পরিস্থিতিতে যে ইস্ট যৌন প্রজনন ঘটিয়েছে তাদের জন্ম দেওয়া বংশধর দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারছে।  তাদের টিকে থাকার সক্ষমতাও বেশি। 
গবেষকরা বলেন, যারা যৌন প্রজননের মাধ্যমে জন্মলাভ করেছে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতায় তারা এগিয়ে রয়েছে। 

পরজীবী?

১৯৯০ সালের আগে রেইকো টেনিসি, রবার্ট অ্যালেক্সলর্ড এবং উইলিয়াম হ্যামিলটনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন প্রজননের মাধ্যমে যারা জন্ম নেয় তারা পরজীবী প্রতিহত করতে বেশি সক্ষম।
অ্যালেক্সলর্ড বলেন, পরজীবীরা আমাদের শরীরের কোষকে নকল করার কারণে দেহের ইমিউনি সিস্টেম তাদের প্রতিহত করতে পারে না। ফলে তারা আমাদের চাইতে ৩০ গুণ বেশি বার বিকশিত হতে পারে। যদিও তাদের জীবনকাল খুবই কম। 
‘আপনি যদি অযৌন প্রক্রিয়ায় জন্মলাভ করতেন তবে আপনার জন্ম দেওয়া সন্তান আপনার বৈশিষ্ট্যেই ধারণ করতো। ফলে আপনি যেসব পরজীবীতে অভিযোজন করতে সক্ষম হতেন আপনার বংশধরও সেসব পরজীবীতে অভিযোজনে সক্ষম হতো।  কিন্তু আমাদের বংশধররা আমাদের চাইতে কিছুটা ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মলাভ করে। অতএব এ ক্ষেত্রে পরজীবীগুলোকে নতুনভাবে জন্মলাভ করতে হয়। সুতরাং যৌন প্রজননের ধারণাটি খুবই ভালো একটা ধারণা। ’
সংগৃহীত ছবি

কেন এখনও পুরুষ প্রজাতি টিকে আছে?

ভাবনার জন্য খুব সুন্দর একটি বিষয় হচ্ছে-প্রজনেনর শুরুতে শুধুমাত্র বীজ দিয়েই কীভাবে এখনও পুরুষ টিকে আছে। এর সম্ভাব্য ধারণা হিসেবে বলা যায়- পুরুষ তার সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং নারী তার পছন্দের পাত্রকে বেছে নেয়। 
২০১৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার গবেষকদের এক গবেষণায়ও এ তথ্যটির প্রমাণ মিলেছে।
সম্পাদনা: এম আলম

Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive