Total Pageviews

Its Awesome!

Tuesday, November 10, 2015

 11:44 AM         No comments
হাদিসে পাওয়া যায় একবার তিনজন লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহে এলেন। সম্মানিত স্ত্রীদেরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরোয়া আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। শুনে তারা মনে হয় কিছুটা হতাশ হলেন, প্রত্যাশা মতো পাননি। পরÿণেই তাদের ভুল ভাঙ্গল। অনুতপ্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন, কোথায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যার পূর্বাপর সমসত্ম গুনাহ মাফ; আর কোথায় আপাদমসত্মক গুনাহে নিমজ্জিত আমরা!
একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন কিছু সাহাবি বিবাহবিমুখ হয়ে বৈরাগ্য গ্রহণে ব্রতী হয়েছে। তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে তিনি বিবাহ বন্ধনে উদ্বুদ্ধ করলেন। হাদিসে উসমান বিন মাযউনের ঘটনা পাওয়া যায়। একবার তিনি নারীর আকর্ষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য নঃপুংসক হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। যাতে যৌন তাড়না থেকে বাঁচা যায় এবং সম্পূর্ণ নিশ্চিমেত্ম নির্বিঘ্নে আল্লাহর ইবাদত করা যায়। জানতে পেরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিবৃত করলেন। পরে তিনি নিজ সংকল্প ত্যাগ করেন। [মেশকাত]
হাদিসে পাওয়া যায় একবার তিনজন লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গৃহে এলেন। সম্মানিত স্ত্রীদেরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরোয়া আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। শুনে তারা মনে হয় কিছুটা হতাশ হলেন, প্রত্যাশা মতো পাননি। পরÿণেই তাদের ভুল ভাঙ্গল। অনুতপ্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন, কোথায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যার পূর্বাপর সমসত্ম গুনাহ মাফ; আর কোথায় আপাদমসত্মক গুনাহে নিমজ্জিত আমরা! একজন বলে উঠল, আমি রাতভর নামায পড়ব। দ্বিতীয়জন বলল, আমি সারা বছর রোজা রাখব। তৃতীয়জন বলল, আমি নারী সংস্রব বর্জন করব, বিয়ে করব না কখনো। ঘটনা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে গেলেন এবং বললেন, তোমরা নাকি এমন প্রতিজ্ঞা করেছো? শোন, খোদার কসম, আমি তোমাদের মাঝে সবচে’ বেশি খোদাভীরম্ন। সবচে’ বড় মোত্তাকী। এতদ্সত্ত্বেও আমি কখনো রোজা রাখি, কখনো রাখি না। নামায পড়ি, আবার ঘুমাই। বিবাহ করেছি, স্ত্রীদের কাছে যাই। আমার পথ থেকে যে সরে যায় সে আমার দলভুক্ত নয়। [বুখারি]
হাদিসের শেষাংশে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ লোককে সতর্ক করেন, যে কিনা বিবাহ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলো। তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে নিজের বৈবাহিক জীবনের দৃষ্টামত্ম তুলে ধরেছেন। শেষে বলেছেন,
اتزوج فمن رغب عن سنتي فليس مني (بخاري باب ترغيب النكاح)
‘আমি বিয়ে করেছি, যে আমার সুন্নত থেকে বিমুখ হয় সে আমার উম্মত নয়।’
হযরত আবু যর রাযি. থেকে বর্ণিত, ওকাফ বিন বিশর তামিমী একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে এলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ওকাফ! তোমার কি বিবি আছে?
নেই, হে আল্লাহর রাসুল!
বাঁদি আছে?
তাও নেই, হে আল্লাহর রাসুল!
পরে বলেন, সাধ্য সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যদি তুমি বিয়েশাদি থেকে পিছিয়ে থাকো তাহলে তুমি শয়তানের ভাই। পরে রাসুল সা. তাকে বিয়ে করিয়ে দেন।
একবার হযরত আবু হুরায়রা রাযি. রাসুলের খেদমতে উপস্থি হয়ে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যুবক, প্রচ- যৌন তাড়না অনুভব করি। কিন্তু আমার বিয়ের সাধ্য নেই। উদ্দেশ্য হলো—আমি খাসি হতে চাই। শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ ছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি একই আবেদন করলেন। এবারও রাসুল সা. চুপ। তৃতীয়বার আরজ করলে নীরবতা ভেঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আবু হুরায়রা! যা হবার লেখা হয়ে গেছে। তুমি খাসি হও, চাই না হও। তবুও কেনো মিছামিছি সন্দেহের বশে ভুল পদক্ষেপ নিবে। এ উদ্দেশ্যে নিজেকে খাসি বানানো জায়েয নেই। [বুখারি]
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বলেন, নারী সংস্রব বর্জন করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। এবং সত্ত্বর বিয়ে করতে বলতেন। [বুলুগুল মুরাম]
অন্য রেওয়ায়েতের মাধ্যমে বোঝা যায়, যাদের বিয়ের সঙ্গতি নেই তাদেরকে রোজা রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যাতে যৌন তাড়না নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইসলামে কোনো অবস্থায় খাসী তথা নঃপুংসক হওয়ার অনুমতি নেই। রোজাই হলো এর উত্তম প্রতিকার। সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যমত্ম কঠোরভাবে বারণ করেছেন। কেননা এটা ভুল পদক্ষেপ, ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী। আল্লাহর মহান আমানতের না শুকরি। আল্লাহ না করম্নন এসব ঝোঁক প্রবণতা যদি তখন কঠোরভাবে দমন করা না হতো আজ এর পরিণতি হতো ভয়াবহ।
মূল- মাওলানা জফিরুদ্দিন
অনুবাদ- মাওলানা মিরাজ রহমান
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive