Total Pageviews

Its Awesome!

Saturday, November 7, 2015

 8:13 PM         No comments

টিভি চ্যানেল ডিসকভারির ‘ম্যান ভারসাস ওয়াইল্ড’ এর উপস্থাপক বা একমাত্র চরিত্র বিয়ার গ্রিলসকে আজকাল মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। অভিযাত্রিকের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে দেয়া হাস্যোজ্জল ও সদা-তৎপর এই মানুষের নামটি সবারই জানা। তিনি তাঁর টেলিভিশন সিরিজ ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড-এর কারণে সর্বাধিক পরিচিত। এই টিভি সিরিজটি যুক্তরাজ্যে বর্ন সারভাইভর নামে পরিচিত।  দেখে নেয়া যাক দুনিয়াজোড়া খ্যাতির শীর্ষে থাকা এই অভিযাত্রিকের পেছনের কথাগুলো।




জন্ম পরিচয় ও শৈশব:
বিয়ার গ্রিলস, যার পুরো নাম এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস। ১৯৭৪ সালের ৭ জুন যুক্তরাজ্যে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কনজারভেটিভ পার্টির মরহুম রাজনীতিবিদ স্যার মাইকেল গ্রিলস ছিলেন বিয়ারের পিতা। বিয়ারের মা হলেন লেডি গ্রিলস যার মা প্যাট্রিসিয়া ফোর্ড ছিলেন পেশায় একজন রাজনীতিবিদ এবং সংসদ সদস্য। লারা ফাউসেট নামে বিয়ার গ্রিলস এর এক বড় বোন রয়েছে। সে পেশায় একজন টেনিস কোচ। বিয়ার গ্রিলস এর বয়স যখন এক সপ্তাহ তখন তিনিই তার ভাইয়ের নাম রাখেন ‘বিয়ার’।

বিয়ার গ্রিলস উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডোনাঘাডি এলাকায় ৪ বছর বয়স অবধি শৈশব অতিবাহিত করেছেন। এরপর তিনি তাঁর পরিবারের সাথে বেমব্রিজ অঞ্চলে যান।

ধর্মীয় বিশ্বাস:
বিয়ার গ্রিলস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। তিনি ধর্মবিশ্বাসকে তাঁর জীবনের “মেরুদন্ড” হিসেবে অভিহিত করেছেন। গ্রিলস ইংরেজি, স্প্যানীয় এবং ফরাসি ভাষা জানেন।

শিক্ষাজীবন:
বিয়ার গ্রিলস ইটন হাউস, লুডগ্রুভ স্কুল এবং ইটন কলেজে শিক্ষা লাভ করেছেন।  বিয়ার স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে।

পর্বতারোহী:
ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড – এ গ্রিলসকে দেখা যায় উঁচু উঁচু সব পাহাড় তার সামনে কিছুই নয়। অতি অল্প বয়সেই গ্রিলস তাঁর বাবার কাছ থেকে পর্বতারোহণ এবং নৌচালনা শিখেছেন। তাঁর বাবা নৌচালনায় দক্ষ ছিলেন। কৈশোরেই গ্রিলস স্কাইডাইভিং এবং কারাতে শেখেন। তিনি যোগ ও নিনজৎসু চর্চা করেন। তিনি যখন ইটন কলেজের ছাত্র ছিলেন তখনই প্রতিষ্ঠা করেন সেই কলেজের প্রথম পর্বতারোহন ক্লাব।

চাকরি জীবন:
বিয়ার গ্রিলস তার কর্মজীবন শুরু করেন সামরিক বাহিনীতে। পড়াশোনার পাঠ শেষ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করেন। এসময় তিনি সিক্কিম অঞ্চলে হিমালয়ে হাইকিং করেন। গ্রিলস ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ইউনাইটেড কিংডম স্পেশাল ফোর্স রিজার্ভে কাজ করেন। ১৯৯৬ পর্যন্ত তিন বছর তিনি স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে কাজ করেন।

চিরতরে হাঁটার শক্তি হারানোর সম্ভাবনা:
যেই বিয়ার গ্রিলসকে এখন আমরা উঁচু উঁচু পাহাড়, সাগর, নদী অনায়াসে পার হতে দেখি সেই গ্রিলস এর একসময় চিরতরে হাঁটার শক্তি হারিয়ে যেতে বসেছিল। সময়টা ছিল ১৯৯৬ সাল। জাম্বিয়ায় একটি প্যারাসুট দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন গ্রিলস। সেই দুর্ঘটনায় গ্রিলস এর হাঁটার ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। পরবর্তী ১ বছর গ্রিলস বিশ্রামে চলে যান এবং সকল অনিশ্চয়তাকে হার মানিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। মানব সেবায় অবদান রাখার জন্যে ২০০৪ সালে গ্রিলসকে সম্মানসূচক পদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডারে পদোন্নতি দেয়া হয়।

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের নেশা:
শৈশবেই বিয়ার গ্রিলস এর স্বপ্ন ছিল মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার। গ্রিলস এর বয়স যখন ৮ বছর তখন তার বাবা তাকে মাউন্ট এভারেস্ট এর একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। সেই ছবি দেখেই গ্রিলস এর মনে বাসা বেঁধেছিল এভারেস্ট জয় করার স্বপ্ন। প্যারাশুট দুর্ঘটনার প্রায় ১৮ মাস পর ১৯৯৮ সালের ১৬ই মে বিয়ার গ্রিলস ২৩ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডস এ নাম লেখান। পরবর্তীতে রব গন্টলেট নামে অপর এক ব্রিটিশ তরুণ ১৯ বছরে এভারেস্ট জয় করে বিয়ার গ্রিলস এর রেকর্ড ভেঙ্গে দেন।

গণমাধ্যমে চলে আসা:
প্যারাশুট দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন বিশ্রামে থাকলেও সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে তিনি অংশগ্রহণ করতেন না। এই সময়টাতে তিনি ঝুঁকে পড়েন টেলিভিশন জগতের দিকে। টেলিভিশন জগতে বিয়ারের প্রথম কাজ ছিল একটি ডিওডোরেন্টের বিজ্ঞাপন। ইংল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত সেনাবাহিনীর মাদক-বিরোধী টিভি ক্যাম্পেইনেও বিয়ার গ্রিলস উপস্থিত হন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত হ্যারডস দোকানের বিজ্ঞাপনেও গ্রিলস অংশগ্রহণ করেন।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন:
টেলিভিশন জগতে আসার পর গ্রিলস বেশকিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। যেমন - ফ্রাইডে নাইট উইথ জোনাথন রোজ, অপরাহ উইনফ্রে শো, দ্য টুনাইট শো উইথ যে লেনো, দ্য লেট শো ডেভিড লেটারম্যান ইত্যাদি। গ্রিলস ইন্টারনেটে পাঁচ পর্বের একটি সিরিজে উপস্থিত হন যেখানে তাকে নগর-জীবনে টিকে থাকার কৌশল দেখাতে হয়। গণমাধ্যমে পরিচিত হওয়ার পর ওয়ার্নার ব্রাদার্স গ্রিলসকে তাদের ক্ল্যাশ অফ দ্য টাইটানস চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল।  কিন্তু বিয়ার গ্রিলস সেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি।

সংসার জীবন:
অবশেষে ২০০০ সালে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ব্যাচেলর থেকে সংসারি হন বিয়ার গ্রিলস। সারা গ্রিলস এর সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে জেস, মার্মাডিউক এবং হাক্‌লবেরি নামে তিন পুত্র সন্তান রয়েছে। ‘বিয়ার’ নামটি তার স্ত্রীর দেয়া।  

লেখক বিয়ার গ্রিলস:
বিয়ারের প্রথম রচিত বইয়ের নাম ফেসিং আপ। এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান পায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে দ্য কিড হু ক্লাইম্বড এভারেস্ট নামে প্রকাশিত হয়। এভারেস্টে তাঁর অভিযান এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত দ্বিতীয় বই ফেসিং দ্য ফ্রোজেন অশেন ২০০৪ সালে উইলিয়াম হিল স্পোর্টস বুক অফ দ্য ইয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। গ্রিলসের তৃতীয় বই বর্ন সারভাইভর: বিয়ার গ্রিলস; এটি পৃথিবীর বেশ কিছু প্রতিকূল পরিবেশে তাঁর টিকে থাকার অভিজ্ঞতা অবলম্বনে রচিত হয়েছে। এটি সানডে টাইমস টপ টেন বেস্ট সেলার তালিকায় স্থান পায়। এছাড়া তিনি বিয়ার গ্রিলস আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার নামে একটি বই লিখেন। ২০১১ সালে বিয়ার গ্রিলস আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। এর নাম মাড, সোয়েট অ্যান্ড টিয়ারস: দ্য অটোবায়োগ্রাফি। দুর্গম স্থানে টিকে থাকার কৌশলের উপর শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি বেশ কটি বই রচনা করেন। এগুলো হল মিশন সারভাইভাল: গোল্ড অফ দ্য গডস, মিশন সারভাইভাল: ওয়ে অফ দ্য ওলফ, মিশন সারভাইভাল: স্যান্ডস অফ দ্য স্করপিয়ন, মিশন সারভাইভাল: ট্র্যাক্স অফ দ্য টাইগার।

বর্ন সারভাইভর/ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড :
এরপর তিনি চ্যানেল ফোরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন এবং তাকে নিয়ে একটি টিভি প্রোগাম বানানো হয় , যা 'বর্ন সারভাইভর' নামে পরিচিত । এই অনুষ্ঠানটি কানাডা , ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি দেশে 'ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড' নামে সুপরিচিত । ২০০৬ থেকে ২০১২ এর মার্চ পর্যন্ত তিনি চ্যানেল ফোর তখা ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকেন এবং মতের অমিল হওয়াতে চ্যানেল ফোর এ অনুষ্ঠানটি বানানো বন্ধ করে দেয়।

আবার ফিরে এসেছেন বিয়ার গ্রিলস:
বিশ্বজুড়ে বিয়ার গ্রিলস এর জনপ্রিয়তা কল্পনাতীত। তার ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে ১.২ বিলিয়ন মানুষ দেখতো। ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে চুক্তিগত দিক থেকে মতের অমিল হওয়াতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাড়া বিশ্বের অসংখ্য বিয়ার গ্রিলস ভক্ত হতাশ হয়ে পড়েন। তাদের জন্য সুসংবাদ হলো আবার ডিসকভারি চ্যানেলে ফিরে এসেছেন বিয়ার গ্রিলস। তবে এবার নতুন এক অনুষ্ঠান, যার নাম ‘Escape From Hell’।

বিয়ার গ্রিলস এর একটি সাক্ষাৎকার:
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটি আপনার কাছে?
  • বিয়ার গ্রিলস: আমার বাসা।
     
বাবা হওয়ার পর আপনার কাজে কি কোনো প্রভাব পড়েছে? আপনাকে গতি কি ধীর করে দিয়েছে?
  • বিয়ার গ্রিলস: দুঃসাহসিক অভিযানই আমার সব সময়ের কাজ। তবে পিতৃত্ব এখন আমাকে বড় কোনো ঝুঁকি নেওয়ার আগে ভাবায়। আগে আমি শতভাগ বেপরোয়া ছিলাম, এখন ৮৫ শতাংশ।
     
ছেলেরা বড় হলে তাদের সঙ্গে দুঃসাহসিক অভিযানে বেরোনোর কোনো পরিকল্পনা আছে?
  • বিয়ার গ্রিলস: আশা করি! আমি যখন একদম ছোট, তখন আমার বাবা আমাকে পাহাড়ে ওঠা শিখিয়েছিলেন। খুবই রোমাঞ্চকর ছিল সেই অভিজ্ঞতা। আমার বাচ্চাদের সঙ্গেও ছোটখাটো বেশ কয়েকটি অভিযানে নেমেছি এ পর্যন্ত।

প্রতিবছর পরিবার ছেড়ে বাইরে থাকেন কত দিন?
  • বিয়ার গ্রিলস: সাধারণত সাত মাস বাইরে থাকতে হয়। এটা খুবই কঠিন আবার আনন্দেরও। তবে সব সময়ই মাথায় থাকে সুস্থ দেহে যত দ্রুত সম্ভব ঘরে ফেরার তাগিদ।
     
আপনার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ স্মৃতি কোনটা?
  • বিয়ার গ্রিলস: সম্ভবত আফ্রিকায় ফ্রিফল দুর্ঘটনায় আমার মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া, কিংবা এভারেস্টের ২১ হাজার ফুট ওপরে একটা গভীর খাদে পড়ে যাওয়াটা। হতে পারে ভেলা থেকে ১৬ ফুট লম্বা একটা টাইগার শার্কের ওপর লাফিয়ে পড়ার স্মৃতিটাও।

আপনার স্ত্রী কি এই দুঃসাহসিক অভিযানে আগ্রহী?
  • বিয়ার গ্রিলস: সে ঘর ভালোবাসে...এবং তাঁর জন্যই আমার নিরাপদে ঘরে ফেরা।

ডিসকভারি চ্যানেলের ম্যান ভার্সাস ওয়াইল্ড অনুষ্ঠানটি কীভাবে তারকা বনে গেলেন আপনি? এই অভিজ্ঞতাটা কেমন?
  • বিয়ার গ্রিলস: এভারেস্টে ওঠার পর ডিসকভারি এবং চ্যানেল ফোর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে (তাঁরা আমার দ্য কিড হু ক্লাইমড এভারেস্ট বইটা পড়েছিলেন। গল্পটা ছিল চারজন পর্বতারোহীর, যারা এভারেস্টের ওপর জীবন হারিয়েছিল)। তারপর তারা বলল, আমরা তোমাকে বিপদৎসংকুল জায়গায় রেখে আসব, তুমি সেখানে কী করে টিকে থাকতে হয় তা দেখাবে। আমি যে তার আগে ব্রিটিশ স্পেশাল ফোর্স থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ নিয়েছি, তা-ও জানত ওরা। প্রথম থেকে বেশ নার্ভাস ছিলাম। তবে মজাটা আবিষ্কার করি শুরু করার পরপরই।

কতজন কলাকুশলী কাজ করেন অনুষ্ঠানটিতে? তাঁরা কি সবাই প্রশিক্ষিত?
  • বিয়ার গ্রিলস: সাধারণত চার থেকে পাঁচজন কলাকুশলী থাকেন আমার সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে কেউ ক্যামেরাম্যান, কেউ শব্দ নিয়ন্ত্রক, থাকেন পরিচালক/সহকারী পরিচালক। হ্যাঁ, তাঁরা সবাই প্রশিক্ষিত। তাঁরা আমার ভালো বন্ধুও বটে।

অনলাইন মাধ্যমে বিয়ার গ্রিলস:
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive