Total Pageviews

Its Awesome!

Saturday, November 21, 2015

 9:49 PM         No comments



মাইক্রোসফটের প্রতিষ্টাতা বিল গেটস এমন একটি বাড়িতে থাকেন যেটি বিল গেটস এর সুনামের জন্যই শুধু নয় বরং বাড়িটির নিজের বিশালত্ব এবং এর সুযোগ সুবিধার জন্যও বিখ্যাত। ওয়াশিংটনের ম্যাডিনা তে অবস্থিত ৬৬,০০০ বর্গফুটেরও বেশী আয়তনের বিশাল এই বাড়িটি লেক ওয়াশিংটনের পাড়ে অবস্থিত। এর প্রায় ৫০০ ফিট পানির সাথে উন্মুক্ত সীমানা রয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে ছোট মনে হলেও এর বেশীরভাগ অংশটাই আছে মাটির নিচে। তাই ছবিতে বাড়িটি দেখতে ছোট মনে হয়। গেটসের ‘দ্যা গেটস হোম’জানাডু-২.০ সিরিজের বাড়ি। এই সিরিজের বাড়িগুলোর নির্মান শৈলি সম্পূর্ন আলাদা।

বিল গেটসের "দ্যা গেটস হোম" এর বিশেষ কিছু ছবি
সাদামাটা বাড়িগুলো থেকে এর প্রধান আলাদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘ইন্টেরিয়রের সাথে আল্ট্রা ইলেকট্রনিক্স এবং কম্প্টিউটার সিস্টেম’ ব্যবহার। এখন পর্যন্ত ২.০ সিরিজের এই একটি বাড়িই নির্মান করা হয়েছে। এই বাড়িটির বর্তমান বাজারদর ১৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও আশেপাশের এলাকা কিনে নিতে গেটস কে আরো ১৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে। তিনি জায়গাটি কিনেছিলেন ১৯৯৮ সালে এবং পরবর্তীতে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে ৭ বছর সময় লাগে। এতে আছে ২২ টিবেডরূম, ২৪টি বাথরূম, ৬ টি কিচেন এবং সমসংখ্যক ফায়ারপ্লেস। পুরো বাড়িটি প্যাসিফিক লজ স্টাইলে নির্মান করা হয়েছে। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৫০০ বছর পুরানো ডগলাস ফির নামক কাঠ। যা পাওয়া গিয়েছিল পরিত্যাক্ত একটি অতি পুরাতন কাঠের ইয়ার্ডে। এছারা ছাদগুলোতে দেয়া হয়েছে বিষেশ ধরনের স্টিল এর সিট।

বিল গেটসের বাড়ির বিশেষ ফিচার

১) সু্ইমিং পুল:

দ্যা গেটস হোম এর সু্ইমিং পুল
৩৯০০ স্কয়ার ফিট সাইজের সুইমিং পুলটির আকার ১৭ ফিট বাই ৬০ ফিট। পুলটিতে একটি আন্ডার ওয়াটার সাউন্ড সিস্টেম আছে। এছাড়া সাতারুরা একটি কাচের দেয়ালে পাশে ডাইভ করতে পারে।
 

২) ব্যায়ামাগারঃ

দ্যা গেটস হোম এ ২৫০০ স্কয়ার ফিটের ব্যায়ামাগর
প্রায় ২৫০০ স্কয়ার ফিট এর একটি ব্যায়ামাগর আছে। এতে সোনা, স্টিম রুম, পুরুষ এবং মহিলাদের আলাদা লকার, এবং একটি ট্রাম্পোলিন রুম আছে ২০ ফিট উচু।

 

৩) লাইব্রেরি:

দ্যা গেটস হোমের লাইব্রেরিতে লিওনার্দ দ্য ভিঞ্চি এর ১৬ শতকের নোটবুক ‘কোডেক্স লিসেস্টার’
"দ্যা গেটস হোম" এর লাইব্রেরি
২১০০ স্কয়ারফিট এর উপর অবস্থিত এই লাইব্রেরিটি। পুরো লাইব্রেরিটির দেয়ালে খুব চমৎকার করে বিভিন্ন রকমের ডিজাইন করা হয়েছে। লাইব্রেরীতে আছে দুটি গোপন বুককেস, আছে একটি লুকানো বার। এখানে খুব দামি এবং কিছু গুরুত্বপুর্ন বই রয়েছে। যেমন লিওনার্দ দ্য ভিঞ্চি এর ১৬ শতকের নোটবুক ‘কোডেক্স লিসেস্টার’ (the Codex Leicester) যেটি তিনি ১৯৯৪ সালে প্রায় ৩১ মিলিয়ন ডলার খরচ করে কিনেছেন। যা তার পুরো বাড়ি বানানো অর্ধেক খরচ।

৪) সুবিশাল সিড়িঃ

বিল গেটস এর সুবিশাল বাড়ি ও সিঁড়ি
প্রায় ৯০ ফিট লম্বা এবং ৬৩ ফিট উচু সিড়িটি ৮০ টি স্টেপে সজ্জিত। সিড়িটি শুরু হয়েছে সুইমিংপুল থেকে এবং শেষ হয়েছে একবোরে নিচে গিয়ে।

৫) মুভি থিয়েটারঃ

"দ্যা গেটস হোম" এর মুভিথিয়েটার
১৫০০ স্কয়ারফিট আয়তন গেটস সাহেবের মুভিথিয়েটারটির। এতে ২০ জন একসাথে বসে মুভি উপভোগ করতে পারবে। এছারা এতে রয়েছে অত্যাধুনিক চেয়ার, পপকর্ন মেশিন এবং এর স্ক্রিন এইচডি।

৬) ডাইনিং স্পেস:

"দ্যা গেটস হোম" এর ডাইনিং রুম
১০০০০ স্কয়ার ফিটের ফায়ারপ্লেসসহ ডাইনিং রুমও আছে যেখানে একসাথে ঘনিষ্ট ২৪৫ জন বসতে পারে এবং এর সাথেই একটি ৩৯ ফিট বাই ২৩ ফিটের একটি কিচেন রয়েছে।

৭) অফিস:

"দ্যা গেটস হোম" এর অফিস, কনফারেন্স এবং কম্পিউটার রুম
ঠিক রিসেপশন হলের উপরেই রয়েছে ১৯০০ স্কয়ার ফিটের অফিস, কনফারেন্স এবং কম্পিউটার রুম।

৮) রিসেপশন হল:

"দ্যা গেটস হোম" এর রিসেপশন হল
রিসেপশন হলের সাইজ ২৩০০ স্কয়ার ফিট। আন্ডার গ্রাউন্ড পার্টি সেন্টার সহ ২০০ লোকের পার্টি করার সুব্যবস্থা। এর একপাশের ওয়ালে ৬ফিট প্রসস্ত একটি ফায়ার প্লেস রয়েছে। এছারা অন্যা ওয়ালে রয়েছে একটি ২২ ফিট লম্বা টিভি সেট। যেটি ২৪ টি ৪০ ইঞ্চি টিভি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এছারা এর সাতে একটি কমার্শিয়ল গ্রেডের কিচেন রয়েছে।

৮) গ্যারেজ:

"দ্যা গেটস হোম" এর গ্যারেজ
বাড়িটির আন্ডারগ্রাউন্ড ৬৩০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের দুটি গ্যারেজ আছে, উপরেও আছে দুইটি সমআয়তনের গ্যারেজ যার প্রত্যেকটিতে ১০ টি করে গাড়ি রাখা যায়।

দ্যা গেটস হোম’ এর বিশেষ বৈশিষ্ট

১) কয়েক মাইল লম্বা কমিউনিকেশন কেবল রয়েছে যার বেশির ভাগই ৫২ মাইল দৈর্ঘ্যেরও বেশী অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল। প্রত্যেকটি রুমে রয়েছে টাচ সেনসেটিভ লাইটিং, মিউজিক এবং ক্লাইমেট চেঞ্জিং সুইচ বোর্ড। তার মানে পুরো বারিতে কোন ভিজিবল সুইজ বোর্ড নেই।
২) এখানে আসা প্রত্যেক ভিজিটর কে একটি ছোট একটি ইলেকট্রক্সি পিন পরিধান করতে হয় যাতে সে যখন যে রুমে যাবে তখন সেন্সর তার শরিরের তাপমাত্রা এনালাইসিস করে অটোমেটিকেলি এসি টেম্পারেচার কন্ট্রোল করবে। এছাড়া লাইট এর উজ্জলাত এবং ভিজিটর এর অবস্থান নির্ধারন করার জন্য এই পিনটি কাজে লাগে।
"দ্যা গেটস হোম" এর ম্যাপ
৩) কিছু দরজা এমন ভাবে ওয়ালের সাথে ফিনিশিং করা হয়েছে যে ধাধায় পরে যেতে হবে আসলে দরজাটা কোথায়।
৪) মুল গেইট টি আগত গাড়ির পরিচিতি স্ক্যান করে অটোমেটিকেলি খুলে যায়। যদি কোন অপরিচিত গাড়ি মুল গেইটে আসে তাহলে এই গেইট খুলবে না কারন সেন্সর তাকে চিনে না।
৫) বাড়ির প্রত্যেকটা দরোজার হ্যান্ডেল বিল গেটসের পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে তৈরী করে নেয়া হয়েছে যার শুধুমাত্র প্রতিটি হ্যান্ডেলের দামই ২০০০ ডলার করে।
৬) বাড়ির প্যাসেজওয়ের কোন কোন দরজার এক একটির ওজন ৮০০ পাউন্ডেরও বেশী, কিন্তু সহজে খোলা এবং বন্ধ করার সুবিধার জন্য সেগুলো কম্পিউটার চিপ দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত।

আপনিও পারেন বিল গেটসের বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে!

বিল গেটসের অত্যাধুনিক এবং উচ্চমানের প্রযুক্তিগত আধুনিক প্যাসিফিক লজ স্টাইলের “দ্যা গেটস হোম”
টাকা দিয়ে বিল গেটসের বাড়ি ঘুরে আসা যায়, সে টাকা বিল গেটসের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনে দান করা হয়। প্রতিবার বিল গেটসের বাড়িতে ঢুকতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৩৫,০০০ ডলার, বাড়িতে গেলে আপনাকে ঘোরাঘুরি করার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি হালকা স্ন্যাকস এবং এপেটাইজারের ব্যবস্থা আছে। তবে তার বাড়িতে ঘুরতে গেলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়, সেখানে apple ব্র্যান্ডের কোন পণ্যসহ কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়না!
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive