Total Pageviews

Its Awesome!

Sunday, November 15, 2015

 9:27 PM         No comments

ঘুম আমাদের মানবজীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কেননা আমরা আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই আমরা ঘুমিয়ে পার করে দিই। ঘুম আসলে কি? আমাদের ঘুমের প্রধানত দুটি মুভমেন্ট রয়েছে। একটি Rapid Eye Movement  (REM) এবং অন্যটি Non Rapid Eye Movement (Non REM)। শোয়ার পর সর্বপ্রথম যে ঘুম আসে তাকে বলা হয় Non REM। এটি আবার ৪টি পর্যায়ে বিভক্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে REM ঘুম। এরও ২টি পর্যায় রয়েছে।


কীভাবে বুঝবেন ঘুমন্ত মানুষটি স্বপ্ন দেখছে?
মানুষ যখন REM ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে তখন তার চোখের পেশীর সংকোচন বাড়ে এবং চোখ নাড়াচাড়া করতে থাকে। Non REM ঘুমে পেশীর নাড়াচাড়া আস্তে আস্তে কমে আসে। REM ঘুমের সময় মানুষের চোখের পাতা যখন নড়াচড়া করে এবং কাপতে থাকে তখন বুঝতে হবে ঘুমন্ত মানুষটি ওই সময়ে স্বপ্ন দেখছে।

স্লিপ ওয়াকিং
আমাদের অনেকেরই ঘুমের মধ্যে হাটার অভ্যাস রয়েছে। অনেকে এটাকে বদঅভ্যাসও বলে থাকেন। তবে ডাক্তারী বিজ্ঞান মতে এটিকে “স্লিপ এপনিয়া” বলে অভিহিত করা হয়।

প্রায়শই দেখা যায় বিছানার উপর ঘুমালেও সকালে ঘুম উঠে দেখা যায় মাটিতে বা অন্য কোথায় পড়ে আছে। Non REM ঘুমের ৩য় ও ৪র্থ পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।

অন্য সবার মতো এ ধরনের অভ্যাসে আক্রান্ত ব্যক্তিও স্বাভাবিক নিয়মে বিছানায় ঘুমাতে যান। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঘুমের ঘোরেই তারা নানা ধরনের কাজকর্ম করা শুরু করে দেন। যেমন – আপন মনে কথা বলা, হাঁসা অথবা কাঁদা, ঘুম থেকে উঠে বসে পড়া, চোখ খুলে তাকিয়ে থাকা, হেটে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে যাওয়া, চেহারা ভাবলেশহীন করে রাখা, এমনকি সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার ব্যাগ পর্যন্ত গুছিয়ে রাখার মতো কাজ ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে করে থাকে। এতোসব ঘটনা ঘটিয়ে চললেও ব্যক্তির মধ্যে কোনো ধরনের অভিব্যক্তি বা অনুভব লক্ষ্য করা যায় না। কারণ বস্তুত তারা জেগে থাকলেও তাদের মস্তিষ্ক তখনও রয়ে যায় ঘুমের রাজ্যে। যার ফলে এ সময়ের কোনো কিছুই তাদের মস্তিষ্ক ধারণ করতে পারে না।

সতর্কতা: এ ধরনের কোনো দৃশ্য চোখে পড়লে সরাসরি ব্যক্তিকে ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা না করাই ভালো। এতে ব্যক্তির মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। যার ফলে ব্যক্তি চিৎকার, চেচামেচি শুরু করে দেয় এবং স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগে যায়।  

এর কারণ:
মেডিকেল সাইন্স অবশ্য এর কিছু কারণও খুজে বের করেছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে –
  • সারাদিন অধিক পরিশ্রমের কাজ করে ক্লান্ত দেহে বিছানায় ঘুমাতে গেলে
  • ভয়, মানসিক অস্থিরতা ও উত্তেজনা থাকলে
  • অনিয়মিত ঘুম ও অপর্যাপ্ত
  • ঘুমের মাঝে বিশেষ ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা পেলে
  • ঔষুধ সেবনের ফলেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে
  • এছাড়া বংশগত কারণেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে

ক্ষতিকর প্রভাব:
এই সময়টাতে মানুষ চেতনার মধ্যে থাকে না। এসময় নিজের অজান্তে সে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

করণীয়:
  • কোনোভাবেই ঘুমন্ত অবস্থাতেই ব্যক্তিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা যাবে না। এ সময়ে ব্যক্তিকে ধরে পুনরায় বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিতে হবে।
  • স্লিপ ওয়াকিং এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে একা ঘরে থাকতে দেয়া ঠিক নয়। এতে ব্যক্তি যেকোনো সময় ঘরের দরজা খুলে রাস্তায় বের হয়ে গাড়ি বা অন্য কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে আহত হতে পারে।
  • কোনো অবস্থাতেই ঘরে ধারালো ছুরি, কাচি, বটি বা অন্যকোনো ধারালো জিনিস রাখা যাবে না।
  • ঘুমের মধ্যে শ্বাস বদ্ধতার কারণে অনেক সময় এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। তাই এই রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যক্তিকে এ সমস্যা থেকে বের করে আনা সম্ভব।
  • ঘুম নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব ওষুধ সেবন ও মাদক গ্রহণ করা হয় সেগুলো পরিহার করতে হবে।
  • প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।  
  • সর্বোপরি এ বিষয়ে অধিক সতর্ক হতে হবে।

তবে এ নিয়ে ভয় পাওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। একটু সচেতনা ও যত্নবান হলেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ক্ষতির হাত থেকে বাচিয়ে ধীরে ধীরে এ থেকে বের করে আনা যায়।
 
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive