Total Pageviews

Its Awesome!

Wednesday, December 18, 2013

 2:52 PM         No comments

এই প্রথম ভারতকে পাশে পাওয়ার বার্তা দিল কোণঠাসা হয়ে পড়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আজ বুধবার এই খবর দিয়েছে ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা।পত্রিকাটির দিল্লি প্রতিনিধি অগ্নি রায় ঢাকা থেকে এই খবর দিয়েছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, ধানমণ্ডির একটি বাড়িতে বসে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের অ্যাসিস্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, “ভারতে আমাদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। সেখানকার সরকার বা সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনও সুযোগই পাওয়া যায় না। আমেরিকা-ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও, নয়াদিল্লি আমাদের জন্য দরজা বন্ধ করে রেখেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের খাতিরে সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলতে চাই।” রাজ্জাকের কথায়, “ভারতে যাওয়ার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে এখানকার হাই কমিশনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।”

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড: ৮ জনের ফাঁসি ও ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের প্রধান (আমির) মতিউর রহমান নিজামি, সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহ্সান মুজাহিদ-সহ চার-চার জন শীর্ষ নেতা একাত্তরে মানবতা-বিরোধী অপরাধের আসামি। এখন তারা জেলবন্দি। বিচার এড়াতে বাকিরা অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। জামাতের মুখপাত্র হিসেবে এখন যিনি কাজ করছেন, সেই আব্দুর রাজ্জাক (যিনি কাদের মোল্লার আইনজীবীও ছিলেন) তাৎপর্যপূর্ণভাবে এমন একটি সময়ে এই বার্তা দিচ্ছেন, যখন বাংলাদেশ জুড়ে চলা সন্ত্রাস ও নাশকতার পুরোভাগে রয়েছে জামায়াতেরই কর্মীরা! বিএনপি-জামাত জোটের পিছনে পশ্চিম বিশ্বের অনেক দেশের মদত থাকলেও নয়া দিল্লি তাদের জন্য দরজা বন্ধ রেখেছে। ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে জামায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নয়া দিল্লির দাবি, জামায়াত নেতৃত্বের জঙ্গি-সংস্রবের হাজার-একটা প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে ভারতে সন্ত্রাস পাচারের অভিযোগ মানতে নারাজ রাজ্জাক। তার কথায়, “এ সব অপপ্রচার।”
অগ্নি রায় লিখেছেন, ঘটনা হলো, ধারাবাহিক হিংসার মধ্যেও বিরোধী-শূন্যভাবে পরবর্তী সরকার গঠন আওয়ামী লীগের কাছে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে পাশে পাওয়া। জামায়াত-বিএনপি জোটও মরিয়া হয়ে দেশ অচলের পথে নেমেছে। আমেরিকা বা ইউরোপকে পাশে পেলেও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত যে এখনো তাদের দূরের দেশ সে কথা স্পষ্ট। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারতের ভূমিকা অস্বীকার করা জামায়াতের পক্ষেও এখন আর সম্ভব নয়। বিশেষত, সরকার যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দ্রুত যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসি দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীকে জামায়াত-বিরোধী অভিযানেও নামানোর। সাতক্ষীরায় ইতিমধ্যেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে বগুড়া, জয়পুরহাট, নীলফামারি, চট্টগ্রাম, রাজশাহীতেও এই অভিযান হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের নির্দেশে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়েছে জামায়াতের। এই পরিস্থিতিতে তারা যে খুবই অসুবিধায় পড়েছেন, রাজ্জাকের কথাতেই তা স্পষ্ট। তার অভিযোগ, “কোথাও ১৫ জন মিলে বৈঠক করলেই পুলিশ গ্রেফতার করছে। ইসলামি বইপত্রও সঙ্গে রাখা যাচ্ছে না। কোথাও অনুষ্ঠান করতে পারছি না।” কিন্তু নাশকতার অভিযোগ অস্বীকার করতে পারছেন না এই জামায়াত নেতা। রাজ্জাকের কথায়, “দলের যুবশক্তিকে কখনো কখনো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ ঠিকমতো আচরণ করলেই হিংসা কমবে। আর নির্বাচনের নামে প্রহসন চললে, আন্দোলনও চলবে।”
আনন্দবাজার বলছে, তবে ভারতের কাছাকাছি আসার জন্য যতই বার্তা দিন রাজ্জাক, হাসিনা সরকারের কর্মকাণ্ডের জন্য তার দল এখনো ভারতকেই দোষারোপ করে চলেছে। নিজেদের মুখপত্রে জামায়াত এমন অভিযোগও তুলছে- এই সরকারকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে উপনিবেশ বানানো ভারতের লক্ষ্য। ভারত-বিরোধী জিগিরের এ বিষয়টি অস্বীকার করেননি রাজ্জাক। তবে তার যুক্তি, ভারতের কাছে প্রত্যাশা না-মেটারই ফলশ্রুতি এই সব অভিযোগ। বড় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের কাছে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
- See more at: http://www.priyo.com/2013/12/18/45841.html#sthash.yxsgUXtn.dpuf
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive