Total Pageviews

Its Awesome!

Sunday, August 4, 2013

 10:20 PM      ,    No comments


SKS, Ak 47, Type 56 Carbine, Type 56 Assault Rifle, Type 63 Assault Rifle, Type 81 Assault

বাংলাদেশ সেনাবাহিনির নতুন অ্যাসাল্ট রাইফেল হচ্ছে টাইপ ৮১ বা বিডি ০৮ ।
কিন্তু হঠাৎ করেই এই রাইফেল তৈরি হয় নি । বলতে গেলে প্রায় ৪০ বছরের নানা প্রচেষ্টার ফসল এই রাইফেল ।



২য় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত নকশাকার Sergei Gavrilovich Simonov এসকেএস কারবিন এর নকশা করেন । তিনি এর জন্য একটি নতুন কার্তুজ নির্মাণ করেন । মুলত সোভিয়েত 7.62x54R কার্তুজ কে কেটে 7.62x39 M43 কার্তুজ নির্মাণ করা হয় ।

এই কারবিন জার্মানদের বিরুদ্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয় । কিন্তু মুলত আকারে বর কিন্তু সেই তুলনায় বুলেটের শক্তি কম হবার কারনে অনেকের এটাকে ভাল লাগে নাই । কিন্তু আবার অনেকের কাছে এটি খুব ভাল লাগে । কারন এটি ভাল লক্ষ্যভেদী ছিল । আধা স্বয়ংক্রিয় ও পরিমানে বেশি বুলেট বহন করা জেত । যদিও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হয়ে ওঠার যেকোন বৈশিশঠই এর ছিল । তাছাড়া এটি খুব Compact রাইফেল ছিল । এই রাইফেলের নকশা প্রস্তুত করার সময় স্তালিন বলেন যে এতে জাতে কোন আলাদা ম্যাগাজিন না থাকে । তিনি মনে করতেন যে এতে করে সৈন্যরা যুদ্ধে তা হারিয়ে ফেলতে পারে । 

যুদ্ধ শেষ হবার পর মিখাইল কালাশনিকভ তার একে ৪৭ রাইফেলের জন্য 7.62x39 M43 কার্তুজ টি কেই বেছে নেন । এই রাইফেলকে সবারই ভাল লাগে । কিন্তু এটার লক্ষ্যভেদ খুব দুর্বল ছিল । কিন্তু সোভিয়েতদের এই নিয়ে খুব চিন্তিত হতে দেখা জায় নাই ।

চীনে যখন কমিউনিজম চালু হয়, তখন চীনারা এসকেএস কারবিনের প্রতি আগ্রহী হয়ে পরে । এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের শিল্প সহায়তা দেয় । চীনারা এসকেএস কারবিনের নাম দেয় টাইপ ৫৬ কারবিন । এবং আকই সাথে তারা একে ৪৭ এর প্রতিও আগ্রহী হয়ে পরে ।

কিন্তু এরই মধ্যে সোভিয়েত দের সাথে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে । এবং ভাল ভাবে কারখানা স্থাপন হবার আগেই সোভিয়েত রা তাদের সামরিক সাহায্য প্রত্তাহার করে নেয় ।

যতটুক সাহায্য ও যন্ত্রাংশ চীনারা পেয়েছিল, তারা তাই দিয়েই একে ৪৭ এর একটি সংস্করন তৈরি করে । তারা এর নাম দেয় টাইপ ৫৬ আসাল্ট রাইফেল ।সোভিয়েতদের মতই এই রাইফেলের লক্ষ্যভেদীতা চীনাদের ভাবিয়ে তোলে ।

পাকিস্তান ৬০ এর দশকে মুলত ৬৫ ভারত-পাক যুদ্ধের পর চীন থেকে টাইপ ৫৬ কারবিন ও আসাল্ট রাইফেল কেনে । অপরদিকে ভারতীয়রা বেলযিয়াম এফএন এফএএল এর ব্রিটিশ সংস্করন এসএলআর কে তাদের সার্ভিস রাইফেল হিসেবে গ্রহন করে । এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রচুর একে এম অ্যাসাল্ট রাইফেল কেনে ।

ভারতীয়দের এসকেএস রাইফেল মোটেও ভাল লাগে নি । অপরদিকে পাকিস্তানিদের এই রাইফেল মানে টাইপ ৫৬ কারবিন ভীষণ ভাল লেগেছিল । এটি ছিল লক্ষভেদি, এবং কম দামে বুলেট তৈরি করা যেত । বুলেটের শক্তি নিয়ে খুব কমই চিন্তা করা হয়ে ছিল ।

৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানিরা টাইপ ৫৬ কারবিন ও আসাল্ট রাইফেল ব্যাবহার করেছিল । মুলত পাঞ্জাব ও বেলুচ ব্রিগেড এটি ব্যাবহার করত । আধা সামরিক পাকিস্তানি মুজাহিদিন ও বাঙ্গালী রাজাকারদের জন্য বরাদ্দ ছিল লী এনফিল্ড ।

মুক্তিবাহিনীর প্রধান অস্ত্র ছিল লী এনফিল্ড ও ব্রিটিশ স্টেনগান । অক্টোবর ও নভেম্বরের দিকে মুক্তি বাহিনির হাতে প্রচুর পরিমানে পাকিস্তানি টাইপ ৫৬ কারবিন ও আসাল্ট রাইফেল হাতে আসতে শুরু করে । আবার আকই সাথে ভারতীয় এসএলআর এর ব্যবহারও বেড়ে জায় । 

মুক্তিবাহিনীর কাছে টাইপ ৫৬ কারবিন ও আসাল্ট রাইফেল খুব ভাল লাগে । কারন বাংলাদেশের মত জলাভুমির আলাকায় এগুলো শ্রেষ্ঠ অস্ত্র । কিন্তু ভারতীয় এসএলআর তাদের কাছে ভাল লাগে নি । এটা নয় যে এগুলো খুব বাজে রাইফেল, এই রাইফেল গুলো খুব ভাল ছিল । ধুলাবালি, কাদা, বরফ জেকন অবস্থাতেই এটি সচল থাকত । ইসরাইলিরাও এফএন এফএএল ব্যাবহার করেছিল আরব-ইস্রাইল যুদ্ধ সমুহে । কিন্তু তাদের রাইফেল বালিতে জ্যাম হয়ে গেলেও ভারতীয় এফএন এফএএল পাঞ্জাবের মরুভুমিতে খুব ভাল সার্ভিস দিয়েছিল । আসলে ভারতীয়রা দাম কমাতে গিয়ে এর পার্টস এর সংখ্যা কমিয়ে ফেলে । যার ফলে এটির রিকোয়েল ছিল মারাত্তক । যা মাঝারি আকৃতির বাঙ্গালিদের পক্ষে ব্যাবহার কঠিন করে দেয় । 

পাকিস্তানিরা কিছু আমেরিকান এম ১৪ রাইফেলও ব্যাবহার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে । বাঙ্গালী নৌ কমান্ডদের কল্যাণে বেশিরভাগ এম ১৪ রাইফেলের স্থান হয় নারায়ঙ্গঞ্জ ও চট্টগ্রামের পানির নিচে । 

যুদ্ধ শেষে ভারতীয়রা তাদের হাতে ধরা পরা এসকেএস রাইফেল বাংলাদেশ সেনাবাহির নিকট হস্তান্তর করে । তবে বেশ কিছু রাইফেল ভারতে নিয়ে যায় চলচিত্রে ব্যাবহারের জন্য । এবং বাংলাদেশিরা ভারতীয় এসএলআর রাইফেল ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেয় ।

এদিকে চীনে এসকেএস রাইফেলের বিশেষ উন্নতি হয় । তারা এসকেএস রাইফেলের accuracy ও একে ৪৭ রাইফেলের fire power মিলিয়ে টাইপ ৬৩ রাইফেল তৈরি করে । কিন্তু এটি Peoples Liberation Army এর মন জুগাতে পারে নাই ।

বাংলাদেশী সেনাবাহিনি তাদের সার্ভিস রাইফেল হিসেবে Yugoslavian PAP M59/66 রাইফেল কে গ্রহন করে । মুলত এটি রাশিয়ান এসকেএস এর Yugoslavian ভার্সন । এই রাইফেলের একটা বড় সুবিধা হল এতে ৪০ মিমি রাইফেল গ্রেনেড ছোরার জন্য ব্যারেলে গ্রেনেড লাঞ্চার যুক্ত আছে; যা আকই সাথে flash suppressor & Muzzle Brake হিসেবে কাজ করে । 

টাইপ ৬৩ কিন্তু একদমই অসফল ছিল না । আগেই বলেছিলাম, এসকেএস রাইফেলে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের সকল গুণাবলীই ছিল । টাইপ ৬৩ রাইফেলে এর পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে । মুলত একে একটি স্বয়ংক্রিয় এসকেএস কারবিনই বলা চলে ।

টাইপ ৬৩ এর পথ ধরে আসে টাইপ ৮১ অ্যাসাল্ট রাইফেল । 

এই রাইফেলে এসকেএস কারবিনের মত সেফতি ক্যাচ ছিল । যার ফলে ত্রিগার থেকে আঙ্গুল না সরিয়েই সেফতি অন আর অফ করা যায় । এটি জেকন একে ৪৭ রাইফেলের মতই একে ম্যাগাজিন ব্যবহার করে । এর ব্যারেলে Yugoslavian PAP M59/66 কারবিনের মত ব্যারেলে ৪০ মিমি ন্যাটো ষ্ট্যাণ্ডার্ড রাইফেল গ্রেনেড লাঞ্চার আছে । সুধু তাই নয়, এর ফরওয়ার্ড গ্রিপের নিচে এম২০৩ গ্রেনেড লাঞ্চার লাগান যায় । বিভিন্ন ধরনের অপটিক্স ও নাইট ভিশন ব্যবস্থা ও ফ্ল্যাশ লাইটের ব্যবহার একে ৪৭ রাইফেলের চেয়ে উন্নত ও সহজ ।

অনেকে বলে থাকেন যে, এই টাইপ ৮১ বা বিডি ০৮ এক ধরনের একে ৪৭ রাইফেল; যেটা সম্পূর্ণ ভুল । মুলত এটি এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় এসকেএস রাইফেল যেখানে একে ৪৭ এর নকশার কিছু কিছু অংশ খুব দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হয়েছে...
Reactions:

0 comments:

NetworkedBlogs

Popular Posts

Recent Posts

Text Widget

Blog Archive